আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ মে ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল।
শুক্রবার নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামরায় নয়জন নিহত এবং আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
হতাহতদের মধ্যে এক নারী ও একটি শিশু রয়েছে। পাশাপাশি টায়ার জনপদ এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় হামলায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে লেবানন সরকার জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই নিয়ে গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ২৬০০ ছাড়াল।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হামলার পরেই প্রত্যাঘাত করেছিল তেহরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র শিয়াগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
আরও পড়ুন:
জবাবে রাজধানীৈ বৈরুত-সহ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে তেলআবিব। এর জেরে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
সেখানে মোতায়েন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল ফ্রান্সসহ বিশ্বের ৩০টি দেশ।
ওই পরিস্থিতিতে গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেছিলেন।
ইসরায়েল পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির পথে অন্যতম ‘কাঁটা’। ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইসরায়েলের সমঝোতার ক্ষেত্রেও এই যুদ্ধবিরতি অতি প্রয়োজন।
ইরান বার বার দাবি করে এসেছে, সমঝোতা করতে হলে লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন আগে বন্ধ করতে হবে। সেই পরিস্থিতিতে লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা।
প্রসঙ্গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনার অভিযান শুরুর পরেই দক্ষিণ লেবাননে সক্রিয় হিজবুল্লাহ তেল আবিবের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছিল। তার পরে এক বছর ধরে সংঘর্ষ চলে। শেষপর্যন্ত গত বছরের গোড়ায় আমেরিকা এবং ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল।
বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির সময়ে দুই দেশ থেকে সাধারণ মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবেন। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জেরে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়।
-এমএমএস