আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ মে ২০২৬, ১০:১৫ এএম
মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে এই ঘোষণায় আশ্বস্ত হতে পারছেন না সু চির ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি বিবিসিকে বলেন, মা বেঁচে আছেন কি না, তারও কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ, এটি ২০২২ সালে তোলা।
শুক্রবার ( ১ মে ) মিয়ানমার সরকার সু চির সাজার মেয়াদ ছয় ভাগের এক ভাগ কমানোর ঘোষণা দেয়। খবর বিবিসির।
তবে সাজার অবশিষ্ট সময় এই নোবেলজয়ী নেত্রী গৃহবন্দি অবস্থায় কাটাবেন কি-না, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী।
এরপর থেকে ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীকে রাজধানী নাইপিদোর একটি কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল।
তার বিরুদ্ধে উসকানি, দুর্নীতি, নির্বাচনে জালিয়াতি এবং রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
২০২১ সালে মিন অং হ্লাইং এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেন।
ওই সময় থেকে জান্তা সরকারকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন মিন অং হ্লাইং। ৩ এপ্রিল তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না।
মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে বলেন, সু চির অবশিষ্ট সাজা ‘নির্ধারিত বাসস্থানে’ কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দুজন সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সু চির ছেলে কিম অ্যারিস বিবিসিকে বলেন, মা বেঁচে আছেন কি না, তারও কোনো প্রমাণ তাঁর কাছে নেই। প্রকাশিত ছবিটিকে তিনি ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কারণ, এটি ২০২২ সালে তোলা।
কিম অ্যারিস বলেন, ‘আশা করি এটা সত্যি। কিন্তু তাঁকে (কারাগার থেকে) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আমার কাছে নেই। যতক্ষণ না আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারছি বা কেউ স্বাধীনভাবে তাঁর অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে পারছেন, ততক্ষণ কিছুই বিশ্বাস করব না।’
মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের দিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে সু চি সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যায়নি। আইনজীবীরা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি; পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নেই দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে।
গৃহবন্দী হিসেবে স্থানান্তরের ঘোষণার আগপর্যন্ত তাঁর স্বাস্থ্য ও জীবনযাপন সম্পর্কে কিছুই জানা যাচ্ছিল না। সু চির আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, গৃহবন্দী করার বিষয়ে তাঁদের সরাসরি কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে সু চিকে শেষ দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের মে মাসে একটি আদালতে। সেনাবাহিনীর করা একাধিক মামলার শুনানিতে তাকে উপস্থিত করা হয়েছে।
মামলাগুলোকে ব্যাপকভাবে সাজানো বলে মনে করা হয়। এর পর থেকে তার ৩৩ বছরের সাজা কয়েক দফায় কমানো হয়েছে।
-এমএমএস