images

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই শেষ, প্রত্যাবর্তন নাকি পরিবর্তন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। এখন সবার নজর আগামী ৪ মে ঘোষণা হতে যাওয়া ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করবে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘প্রত্যাবর্তন’ ঘটবে নাকি বিজেপির নেতৃত্বে রাজ্যের শাসক গোষ্ঠীতে ‘পরিবর্তন’ আসবে।

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে গড় ভোট পড়েছে ৮৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। তবে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত। এর ফলে দ্বিতীয় দফার ভোটদানের হারও প্রথম দফার মতোই রেকর্ড সংখ্যার দিকে ইঙ্গিত করছে। প্রথম দফায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৯২ শতাংশ, যা নজিরবিহীন। 

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ম্যাজিক ফিগার হলো ১৪৮। অর্থাৎ সরকার গঠন করতে কমপক্ষে জিততে হবে ১৪৮টি আসনে।

এদিকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম তাদের বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোল প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এসব জরিপের বেশিরভাগেই এগিয়ে আছে বিজেপি। 

পি ম্যাট্রিজের বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে শেষপর্যন্ত বাজিমাত করবে বিজেপি। ১৪৬-১৬১টি আসনে জিততে পারে পদ্মশিবির। আর ১২০-১৪০টি আসনে জিততে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, ছটি থেকে ১০টি আসন পেতে পারে অন্যান্যরা। খাতা খুলতে পারবে না বাম এবং কংগ্রেস।

পিপলস পালসের বুথফেরত জরিপ বলছে, আসন কমলেও পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় জয় পাবে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৭৭-১৮৭টি আসনে জিততে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বিজেপি থেমে যেতে পারে ৯৫-১১০টি আসনেই। শূন্যের গেরো কাটিয়ে একটি আসন জিততে পারে বামেরা। একটি থেকে তিনটি আসন যেতে পারে কংগ্রেসের ঝুলিতে। অন্যান্যরা একটি বা দুটি আসনে জিততে পারে।

পি-মার্কের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২৯৪ আসন-বিশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গের ম্যাজিক ফিগার হল ১৪৮। এরমধ্যে ১৫০-১৭৫টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূলের ঝুলিতে ১১৮-১৩৮টি আসন যেতে পারে। বাম, কংগ্রেস বা অন্যান্য দল পুরোপুরি ধসে যাবে। 

image

চাণক্য স্ট্র্যাটেজিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বাংলায় বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের জরিপ বলছে, বিজেপি এবার সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। তাদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ১৫০ থেকে ১৬০টি। আর বর্তমান ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস পেতে পারে ১৩০ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যান্য (বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য) পেতে পারে মাত্র ৬ থেকে ১০টি আসন।

উল্লেখ্য, এর আগে কার্যত কোনও সংস্থাই সঠিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাস দিতে পারেনি। ফলে চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে আগামী ৪ মে ভোট গণনা শেষে এবং বোঝা যাবে বাংলার মসনদে কে বসছেন।

এদিকে শুরু থেকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় ফিরে আসার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। 

বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে নিজের আসন ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘আমার কাছে যা তথ্য আছে, বিজেপি হারছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেস।’

এই দফায় ভোট হচ্ছে রাজ্যের রাজধানী কলকাতার ১১টি আসনসহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে। আর দক্ষিণবঙ্গ মূলত তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাঁটি। এখানে দলটির কল্যাণমূলক কর্মসূচির প্রভাব স্পষ্ট, আর এই অঞ্চলের অধিকাংশ আসন জয়ের ব্যাপারে দলটি আত্মবিশ্বাসী। এই দফায় যে ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে সেখানে তৃণমূল পেয়েছিল ১২৩টি আসন, বিজেপি ১৮টি এবং বামফ্রন্ট ১ টি।

তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটি ভাঙা এখন বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলটি সূত্র অনুযায়ী পরিসংখ্যানের ওপর ভরসা রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছে। যেখানে আগে তারা এগিয়ে ছিল, সেই আসনগুলোকে কেন্দ্র করে তারা কৌশল তৈরি করেছে। 

তাদের আশা, এর মাধ্যমে প্রথম দফার ফল এবং ২৯৪ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮ আসনের ব্যবধান কমানো যাবে।

বিজেপির কৌশলে রয়েছে কঠোর রাজনৈতিক ইস্যু—চাকরি, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি এবং নারীর নিরাপত্তা। এর পাশাপাশি কলকাতার খানাখন্দে ভরা রাস্তা নিয়ে কটাক্ষ এবং উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—সব মিলিয়ে যেন ঝালমুড়ির মতোই মশলাদার এক মিশ্রণ, যাতে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।

এদিকে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার সবথেকে চর্চিত আসন ভবানীপুর। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

সকালেই নিজের ভোট দিয়ে হাসিমুখে বেরিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাপে আছেন। আমি ৩০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হব।’

মমতার বয়স নিয়ে খোঁচা দিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘ওনার বয়স হয়েছে, ভোট দিয়ে এবার বাড়ি চলে যান।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের লড়াই তৃণমূলের জন্য ‘ডু অর ডাই’ পরিস্থিতির মতো। ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে বিজেপির অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি ফ্যাক্টর কাজ করবে নাকি মমতার সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো তাকে ফের জেতাবে, তা স্পষ্ট হবে ফলাফল প্রকাশের পর। 

যদিও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কম। কিছু এলাকায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা তৃণমূলের জয় ব্যবধানের চেয়েও বেশি।

এমএইচআর