আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পর্যালোচনা বিষয়ক মাসব্যাপী সম্মেলনে ইরানকে অন্যতম সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদফতরে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছে দুই দেশ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটির বাস্তবায়ন পর্যালোচনার একাদশ সম্মেলন শুরু হয়েছে সোমবার। এবারের সম্মেলনে ভিয়েতনামকে সভাপতি এবং ইরানসহ ৩৪টি দেশকে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করে সদস্যদেগুলো। তবে ইরানকে নির্বাচিত করার এই পদক্ষেপকে এনপিটি চুক্তির প্রতি ‘উপহাস’ বলে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।
সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া জাতিসংঘে নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত দো হুং ভিয়েত বলেছেন, ‘জোট নিরপেক্ষ ও অন্যান্য রাষ্ট্রগুলো ইরানকে বেছে নিয়েছে’।
অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তার রোধ ব্যুরোর সহকারী সচিব ক্রিস্টোফার ইয়াও সম্মেলনে বলেন, ইরানকে মনোনীত করা এনপিটির প্রতি একটি ‘অপমান’।
তিনি বলেন, ‘এটি অনস্বীকার্য যে ইরান দীর্ঘদিন ধরে এনপিটির পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ সংক্রান্ত অঙ্গীকারের প্রতি তার অবজ্ঞা প্রদর্শন করে আসছে এবং দেশটির কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর সমাধানে জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করেছে’।
তিনি ইরানের নির্বাচিত করাকে অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এই সম্মেলনের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য একটি বিব্রতকর ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন।
জবাবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় তেহরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রেজা নাজাফি মার্কিন দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা অগ্রহণযোগ্য যে যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র দেশ, যারা যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ অব্যাহত রেখেছে... তবে তারা নিজেকে সালিশের বিচারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।’
প্রসঙ্গত, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে দুই মাসব্যাপী যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পারমাণবিক ইস্যু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার দীর্ঘদিনে দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না’।
তবে ইরানও দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের কাছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি করে আসছে। তেহরানের দাবি, তারা কেবল শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই এটি অর্জন করতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদেশগুলোর মতে, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের উদ্দেশ্য পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর