আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসাবে বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদিকে নিয়োগ দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশে বর্তমানে দায়িত্বরত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খুব তাড়াতাড়ি তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
ভারতের দ্য হিন্দু পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীর জন্ম গুজরাটে হলেও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বরাবর তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। অলইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-’৯৬ পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সাংসদ ছিলেন। তবে ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তৃণমূল গঠন করেন, সেই দলে যোগ দেন দীনেশ এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হন।
২০০২ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ ছিলেন। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোটের সরকারে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসাবে মনমোহন সিংহ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জেতার পর মমতা রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়লে, সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। কিন্তু রেলের ভাড়া বাড়ানোয় তার উপর ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন মমতা। তাকে রেলমন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে তিনি আবার তৃণমূলের প্রার্থী হন। কিন্তু সে বার বিজেপির অর্জুন সিংহের কাছে হেরে যান। তার পর তৃণমূল তাকে আবার রাজ্যসভায় পাঠায়। কিছু দিন পরই তৃণমূলের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ তৈরি হয় দীনেশের। এর জেরে ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে বিজেপিতে যোগদান করেন এবং রাজ্যসভার সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেন।

এদিকে এমন এক প্রেক্ষাপটে ঢাকায় দিনেশ ত্রিবেদিকে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ করল ভারত, যখন বাংলাদেশে জুলাই গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর ভারতে অবস্থানের পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সেই সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা হচ্ছে।
কারণ সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের (আইএফএস অফিসার) এই পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে নিয়োগ দেওয়া একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে- বিশেষ করে নতুন সরকারের অধীনে সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং রাজনৈতিক স্তরে আস্থা বাড়াতে নয়াদিল্লি একজন ঝানু রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সাথে দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কারণে বাংলা ভাষায় পারদর্শী ত্রিবেদী। এই ভাষাগত দক্ষতা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমএইচআর