images

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার কাছে যে সহায়তা চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া সফরে গেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। গুরুত্বপূর্ণ এই সফরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তার। এসব বৈঠকে সামরিক সহযোগিতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সমর্থনও চাইতে পারেন আরাঘচি।

এই বিষয়ে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফুয়াদ ইজাদি বলেন, সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত বিস্তৃত। দীর্ঘদিনের এই সামরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাতে পারেন ইরানি   পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অধ্যাপক ইজাদি আল জাজিরাকে বলেন, ‘ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় পর্যায়ে নেই। তাই আমার মনে হয়, ইরান আশা করছে রাশিয়া এ বিষয়ে সহায়তা করতে পারে।’

তিনি জানান, ‘রাশিয়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। কয়েক সপ্তাহ আগে দেশটির ইরানের বিরুদ্ধে বাহরাইন-যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল। তাই বর্তমানে ইরান নিশ্চিত হতে চায়, রাশিয়া রাজনৈতিকভাবে তাদের পাশে আছে এবং নিরাপত্তা পরিষদের মতো জায়গাগুলোতে ইরানকে সাহায্য করতে পারে।’

ইজাদি আরও বলেন, ইরান-রাশিয়া সামরিক সহযোগিতা বহু বছরের পুরনো। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান ক্রমান্বয়ে উপলব্ধি করে, সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়া-ই ইরানকে সাহায্য করতে পারে।

এদিকে সোমবার রাশিয়ায় দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেইন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান ও মস্কোর মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ পরামর্শ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই তার এই সফরের মূল লক্ষ্য। 

তিনি মনে করেন, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি উল্লেখ করেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠকটি চলমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার একটি চমৎকার সুযোগ তৈরি করবে। 

তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক পরামর্শ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সমর্থন ও রাজনৈতিক অবস্থান তেহরানের জন্য বড় একটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করছে।

চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন আরাঘচি।

অন্যদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার শান্তি আলোচনা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইরানের জন্য ক্রেমলিনের এই সমর্থনকে বিশ্লেষকরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির এই সফর কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর একটি কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল। ইরান ও রাশিয়ার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা বর্তমান বৈশ্বিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর