আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে ওয়াশিংটনকে সমর্থন না করার জন্য সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাঘাব এস্ফাহানি হুশিঁয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধের মধ্যে তেল কূপসহ ইরানের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে; তাহলে জবাবে ওয়াশিংটনের মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে চারগুণ হামলা চালাবে তেহরান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক সতর্ক বার্তায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এস্ফাহানি বলেন, ‘আমরা যেকোনো যুদ্ধাপরাধের জবাব দেব। এই অবরোধের ফলে যদি তেলকূপসহ আমাদের কোনো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে আমরা নিশ্চিত করছি যে আগ্রাসনকারীদেরকে সমর্থনকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রে এর চারগুণ শাস্তি দেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের হিসাব করার পদ্ধতিটা ভিন্ন। একটা তেলকূপ মানে চারটি তেলকূপ।’
মূলত, গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধারাবাহিক চাপ ইরানের তেল সংরক্ষণাগার বা ট্যাংকারে স্থানান্তরের ক্ষমতা ব্যাহত করতে পারে। ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবেই ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে! তারা অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে -- নগদ অর্থের জন্য হাহাকার করছে! প্রতিদিন ৫০ কোটি ডলার লোকসান হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযোগ করছে যে তারা বেতন পাচ্ছে না।’
পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘(হরমুজ প্রণালিতে চলমান অবরোধ) এ ধরনের বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের তেল পাইপলাইনগুলো একটি সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।’ এর মাধ্যমে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার বিষয়টি তুলে ধরেন, যা ওয়াশিংটনের চাপ প্রয়োগের কৌশলের একটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি এসব তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের অবসানে তিন স্তর বা পর্যায়ের একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেহরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসতে চায়— সেক্ষেত্রে নতুন প্রস্তাবের ভিত্তিতে আলোচনা হতে পারে।
এই যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইরানের নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম পর্যায়: যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং পরবর্তীতে ইরান এবং লেবাননে আর আগ্রাসী হামলা হবে না— এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে।
দ্বিতীয় পর্যায়: যদি প্রথম স্তরের দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মেনে নেয়, তাহলে দ্বিতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি পরিচালনা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আলোচনা চলবে।
তৃতীয় পর্যায়: যদি প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ মীমাংসায় পৌঁছায়, তখন ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউজ।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইআর