images

আন্তর্জাতিক

আলোচনা থমকে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১০ এএম

যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থমকে যাওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন সীমিত থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় ভোররাত ৪টার দিকে (গ্রিনিচ মান সময় রোববার রাত ১০টা) ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২ দশমিক ২২ ডলার বা ২ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৫৫ ডলার হয়েছে।

অর্থাৎ গত সপ্তাহের শেষের দিকের কূটনৈতিক অচলাবস্থার জেরে রোববার (২৬ এপ্রিল) তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

মাঝে দাম কিছুটা কমার আভাস পাওয়া গেলেও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলেছে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ৫ ভাগের ১ ভাগ পরিবাহিত হয় পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে। মেরিটাইম ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফরম ‘উইন্ডওয়ার্ড’-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পথটি কার্যত অচল।

যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে দৈনিক গড়ে ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত।

গত শনিবার মাত্র ১৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের হুমকির ফলে এই সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা তেলের দাম বাড়ার প্রধান কারণ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বিশেষ প্রতিনিধিদের পাকিস্তান সফর বাতিল করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কোনো সরাসরি বৈঠক ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।

আরাগচি বর্তমানে কূটনৈতিক সংকট নিরসনে রাশিয়ার সহায়তা নিতে মস্কো পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করবেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

তেলের দাম বাড়লেও এবং কূটনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সোমবার সকালে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের ‘নিক্কেই ২২৫’ সূচক ০.৯ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘কসপি’ ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এতে বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
এআরএম