images

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা জাহাজে চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিল: ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮ পিএম

ওমান সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জব্দ করা ইরানি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘তুসকা’ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার সরঞ্জাম বহন করছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি মিশন। 

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মিশনটি বলেছে, ‘জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ডায়ালাইসিস সামগ্রী ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহন করছিল এবং এই জব্দকরণ আন্তর্জাতিক আইনের একটি চরম লঙ্ঘন’।

এতে আরও বলা হয়, ‘এই জবরদস্তিমূলক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে, অবাধ নৌ-চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং সংকটাপন্ন রোগীদের চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।’

চিকিৎসার সরঞ্জাম বহন করা জাহাজ জব্দের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে ইরানি মিশন বলছে, ‘এই ঘটনার সাথে জড়িতদের অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ এপ্রিল রমুজ প্রণালির চারপাশে নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে ওমান সাগরে তুস্কা জাহাজটি আটক করে। 

জাহাজটি জব্দ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, নাবিকেরা ছয় ঘণ্টা ধরে একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন। পর মার্কিন ডেস্ট্রয়ার স্প্রুয়েন্স জাহাজটিকে ‘ইঞ্জিন কক্ষ খালি করার নির্দেশ’; দেয় এবং পরে একাধিক কামানের গোলা ছুড়ে ‘তুসকা’ জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ অচল করে দেয়। এরপর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ সেনারা। বর্তমানে জাহাজ ও এটির ক্রু তাদের হেফাজতে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি চীনের দেওয়া সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান বহন করছিল। তবে চীন এই দাবি অস্বীকার করেছে।  

এদিকে জাহাজটিসহ এর নাবিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত মুক্তি না দিলে কঠোর পালটা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। 

মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজটির নাবিকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারগুলোকেও আটক রাখা হয়েছে। তেহরান এ ঘটনাকে একটি জলদস্যুতা, আন্তর্জাতিক আইন ও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে জাহাজটি ও এর নাবিকদের ‘তাৎক্ষণিক মুক্তি’ দাবি করছে।

এতে বলা হয়, ‘জাহাজের নাবিক, কর্মী ও তাদের পরিবারবর্গকে ভীতি প্রদর্শনের এই কাজটি জলদস্যুতা এবং একটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এটি শুধু জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি ও নিয়মাবলীর লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি গত ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আরেকটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং ইরানের বিরুদ্ধে একটি আগ্রাসনমূলক কাজ হিসেবে গণ্য’।

ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জাতিসংঘের মহাসচিব, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা ব্যক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে তেহরান।

এ ঘটনায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকে বহন করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নিঃসন্দেহে তার জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে এবং ইরানিদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষিত করতে যেকোনো পর্যায়ের সক্ষমতা ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না। এই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলার সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্রের।’

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইআ