আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ইরান যুদ্ধে মার্কিন অভিযানকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হওয়া ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়- পেন্টাগন। এর মধ্যে স্পেনকে জোট থেকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে বিষয়ে মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে এই পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইমেইলটির বর্ণনা দিতে ওই কর্মকর্তা জানান, ইরান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ব্যবহার, ঘাঁটি এবং ওভারফ্লাইট অধিকার (এবিও) দিতে মিত্র দেশগুলোর অনীহা বা অস্বীকৃতির প্রেক্ষিতে হতাশা প্রকাশ করে লেখা একটি নোটে নীতিগত বিকল্পগুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ই-মেইলে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এবিও হলো ন্যাটোর সদস্য হওয়ার ‘ন্যূনতম ভিত্তি’।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইমেইলের একটি প্রস্তাবে ‘অসহযোগী’ দেশগুলোকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে ন্যাটোর কোনো সদস্যকে বরখাস্ত করা সম্ভব কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে ন্যাটোর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে ন্যাটোর সদস্যপদ স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।’
মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু পর বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে।
এরপর থেকেই ন্যাটো মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। এমনকি ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন বলেও হুমকিও দিয়ে রেখেছেন।
এ বিষয়ে গত ১ এপ্রিল রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা, এমন একটি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘আপনি যদি আমার জায়গায় থাকতেন, তাহলে কি তাই করতেন না?’
তবে ইমেইলটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরাসরি বেরিয়ে যাওয়া বা ইউরোপের ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার কোনো পরামর্শ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন ওই মার্কিন কর্মকর্তা।
পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন এই ই-মেইলের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার ন্যাটো মিত্রদের জন্য এত কিছু করার পরেও তারা আমাদের পাশে ছিল না। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করবে যেন প্রেসিডেন্টের কাছে নির্ভরযোগ্য বিকল্প থাকে যাতে আমাদের মিত্ররা আর শুধু কাগজের বাঘ হয়ে না থাকে এবং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।’
অন্যদিকে ইরান ও লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচক হিসেবে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম স্পেন। এমনকি এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমানগুলোর জন্য আকাশসীমা ও তাদের কোনও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করে স্পেন সরকার। এতে চরম ক্ষুদ্ধ হন ট্রাম্প।
স্পেনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মাদ্রিদ এই পদক্ষেপকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএইআর