images

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ভোট, কার দিকে ঝুঁকছে জনমত?

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৯ এএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু- এই দুই রাজ্যে এবারই সর্বোচ্চ ভোটদানের নজির গড়েছে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রথম দফায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ৯২ শতাংশ, যা চূড়ান্ত হিসাবে আরও বাড়তে পারে। এই উচ্চ ভোটহার সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে- এটি কি সরকারবিরোধী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ, নাকি শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে দৃঢ় সমর্থনের ইঙ্গিত?

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছিল ৮২.৩০ শতাংশ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা ছিল ৭৯.৫৯ শতাংশ। সেই তুলনায় এবারের প্রথম দফাতেই ৯১ শতাংশের বেশি ভোট পড়া নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও এই হার নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক, পুরো রাজ্যের গড় নয়, তবুও ভোটারদের আগ্রহ যে বেড়েছে তা স্পষ্ট।

একই দিনে তামিলনাড়ুতেও ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটের হার ছিল ৮২ শতাংশের বেশি। ফলে সামগ্রিকভাবে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই উচ্চ ভোটের পেছনে সরকারবিরোধী মনোভাব কাজ করতে পারে। ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক, নাম বাদ পড়া এবং ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ—এসব কারণে অনেক ভোটার বুথমুখী হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিপরীত মতও রয়েছে। অনেকের মতে, বেশি ভোট পড়া মানেই সবসময় সরকারবিরোধী হাওয়া নয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, শক্ত সাংগঠনিক উপস্থিতি এবং ভোটারদের সক্রিয়তা—এসব কারণেও ভোটের হার বাড়তে পারে। তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী রেখেছে, যা তাদের পক্ষেও কাজে আসতে পারে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলেও দেখা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস ৪৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল, যেখানে বিজেপির ভোট ছিল প্রায় ৩৯ শতাংশ। ফলে বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও শাসকদলের ভিত্তি শক্ত রয়েছে বলেই মনে করা হয়।

সব মিলিয়ে, এই রেকর্ড ভোট সরকারবিরোধী নাকি শাসকপন্থি- এ মুহূর্তে তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক মেরুকরণেরও ইঙ্গিত হতে পারে, যেখানে উভয় পক্ষই নিজেদের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনতে সক্ষম হয়েছে।

চূড়ান্ত উত্তর মিলবে ফল ঘোষণার দিন, আগামী ৪ মে। ততদিন পর্যন্ত এই রেকর্ড ভোট নিয়েই চলবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার আলোচনা।