আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
চলছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ, এরমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হুমায়ুন কবীরের দল-আম জনতা উন্নয়নের কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে অস্থিতিশীলতার খবর সামনে আসছে। হুমায়ুন কবীর এলাকায় আসতেই তাকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়। নওদা থানা এলাকার শিবনগর গ্রামের ১৭৩ নম্বর বুথে তাকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান তোলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। তারপর হুমায়ুন কবীরও প্রতিবাদে রাস্তার মাঝে বসে পড়েন। পরে হুমায়ুন কবীর ওই এলাকা থেকে বেরোনোর চেষ্টা করার সময়ে তার উপর হামলা চালানো হয় এবং গাড়ির সামনে বাঁশ ফেলে গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কনভয়ের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পোলিং এজেন্টের গাড়িতে ইট নিক্ষেপের অভিযোগও ওঠে। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহযোগিতায় বিক্ষোভস্থল থেকে বেরিয়ে যান হুমায়ুন কবীর। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গোলমাল পাকানোর অভিযোগ তুলেছে।
তবে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীরের পার্টি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু করেছে। স্থানীয় কর্মীরা গণমাধ্যমকে বলেছেন যে হুমায়ুনই 'সমাজবিরোধীদের' নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিলেন।
ইতোমধ্যে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে এফআইয়ার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসকর্মীরা।
এরআগে সকালে সকালে শিবনগরে ভোটকেন্দ্রের কাছেই বোমাহামলার খবর আসে। এছাড়াও ডোমকল কেন্দ্রে সিপিআই (এম) ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে চার জন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে পুলিশ। এর ফলে ২১৭ নম্বর বুথে ভোট দিতে যেতে তারা বাধার মুখে পড়েন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পরে মুর্শিদাবাদ পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার আবেদন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, হুমায়ুন কবীর আগে তৃণমূল কংগ্রেসেরই বিধায়ক ছিলেন। মুর্শিদাবাদ জেলায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদ গড়ার ঘোষণা করেন তিনি। তারপরেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপরে তিনি নিজের দল গড়েন। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের সঙ্গে এই ভোটের জন্য জোট গড়েছিলেন তিনি। তবে একটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা স্টিং অপারেশনের ভিডিও সামনে আসার পরে তার সঙ্গে ওয়াইসি নির্বাচনী জোট ভেঙে দেন।
উল্লেখ্য, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া ভোট চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভোট পড়েছে ৬২ দশমিক ১৮ শতাংশ যার মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরে সবথেকে বেশি ভোট পড়েছে।
আজ যেসব জেলায় ভোট হচ্ছে সেগুলো হলো- দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।
প্রথম দফার ১৫২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ৫২৫টি। সবচেয়ে বেশি ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহার আসনে। দ্বিতীয় ও শেষ ধাপে ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ৪ মে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ হবে। বিবিসি বাংলা
এমএইআর