আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম
রাশিয়ার রাজধানীর মস্কোর ডোমোডেডোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪০ জন ইসরায়েলিকে ইরান যুদ্ধে জড়িত থাকার জন্য আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম মিডিয়াজোনা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধে জড়িত থাকার সন্দেহে রুশ নিরাপত্তা বাহিনী ভ্রমণকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং খাবার, পানি বা শৌচাগারের সুবিধা ছাড়াই পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখে। আটকদের মধ্যে শিশু এবং রাশিয়া-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিকও ছিলেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়. জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুশ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই ইসরায়েলিদের তাদের ফোন আনলক করতে বলেন, কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকার করেন। পরে কর্তৃপক্ষ তাদের সব মোবাইল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
একাধিক সূত্র মিডিয়াজোনাকে জানিয়েছে, “জিজ্ঞাসাবাদের সময় ইসরায়েলিদের বলা হয়, ইরান রাশিয়ার মিত্র আর তাই ‘ইরানের শত্রু রাশিয়ারও শত্রু’। মস্কোতে তাদের ভ্রমণকে ‘স্বাগত জানানো হচ্ছে না’ আর তারা ‘বিনা কারণেই’ রাশিয়া গিয়েছে”।
এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়টি জানায়, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জানার সাথে সাথেই ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সাআরের নির্দেশে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইসরায়েলে অবস্থিত রুশ দূতাবাসে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘এই হস্তক্ষেপের পর ঘটনাটির সমাধান করা হয় এবং ইসরায়েলিদের রাশিয়ায় প্রবেশের অনুমোদন দেওয়া হয়। রুশদের বোঝানো হয়েছে যে এই আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ইসরায়েল এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে’।
বিবৃতি আরও বলা হয়, ইতোমধ্যেই ইসরায়েলি নাগরিকদের রাশিয়া ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করে একটি ভ্রমণ সতর্কতাও জারি করেছে তেল আবিব।
তবে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আনাতোলি ভিক্টোরভ এই অভিযোগগুলোকে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েলিদের ‘আটক’ ও ‘জিজ্ঞাসাবাদ’, তাদের শৌচাগার ব্যবহারে বাধা দেওয়া এবং রুশ সীমান্তরক্ষীদের কথিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রশ্ন সম্পর্কে কথিত গণমাধ্যমে প্রচারিত অভিযোগ আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।”
সূত্র: আনাদোলু, টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর