images

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানকে আহ্বান পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে এবং সংলাপ ও কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। গত ৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হচ্ছে আগামীকাল বুধবার। এরআগে দুই পক্ষ যদি কেনো চুক্তি করতে না পারে, তাহলে আবারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি বলা হয়, আজ ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স ন্যাটালি বেকারের সঙ্গে এক বৈঠকে ইসহাক দার এই আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা এবং  যে কোনও ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় তিনি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বেকার আঞ্চলিক শান্তি প্রসারে এবং সংলাপ সহজতর করতে পাকিস্তানের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার জন্য ওয়াশিংটনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা ‘অত্যন্ত কম’। 

মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা করতে চাই না। আমাদের হাতে এত সময় নেই।’

তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতির সময়টিকে সরঞ্জাম মজুত করতে ব্যবহার করেছে এবং তার নির্দেশ পেলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ আছে... আমাদের কাছে প্রচুর গোলাবারুদ, সবকিছুই প্রচুর পরিমাণে আছে… আমরা এটা (যুদ্ধবিরতি) মজুদ পূরণের জন্য ব্যবহার করেছি এবং সম্ভবত তারাও কিছুটা মজুদ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। সেনাবাহিনী অভিযানে নামতে উদগ্রীব।’

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আলোচনা করা ছাড়া ইরানি কর্মকর্তাদের তাদের আর কোনো উপায় নেই। আমরা তাদের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছি, তাদের বিমানবাহিনীকে ধ্বংস করেছি, তাদের নেতাদের নির্মূল করেছি। একটি চুক্তিতে পৌঁছালে ইরান খুব ভালো অবস্থানে আসতে পারে।’ 

অন্যদিকে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য এখনো কোনো ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়নি বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে ইরানের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদে রওনা হওয়া, পৌঁছানো বা সম্ভাব্য আগমনের তারিখ নিয়ে যেসব খবর প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোকে ‘গুজব’ আখ্যা দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। 

মঙ্গলবার টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরনা জানিয়েছে, ‘এখন পর্যন্ত ইরান থেকে কোনো প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে যায়নি। না মূল বা উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল, না গৌণ বা ছোট দল, না প্রাথমিক কোনো দল, না পরবর্তী বা ফলোআপ কোনো দল সেখানে গেছে’।

ইরানে পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে পোস্টে আর বলা হয়, ‘হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে তেহরান কোনো আলোচনা গ্রহণ করবে না’।

এদিকে সম্ভাব্য এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের ব্যাপক প্রস্তুতি সত্ত্বেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম পাকিস্তানে কোনো কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা অস্বীকার সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।  

ইরানি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনার পরবর্তী পর্বে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে তেহরান এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেছেন, দুই পক্ষের প্রতিনিধিদলগুলো যদি আলোচনায় যোগ দেয়ও, তারা বুধবারের আগে পৌঁছাবে না। ফলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য হাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় থাকবে।

সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু

এমএইচআর