images

আন্তর্জাতিক

বাঙালি ফ্লাইং অফিসার ওয়ালিদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর

ঢাকা মেইল ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ফ্লাইং অফিসার ওয়ালিদ এহসানুল করিমের ৬১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে দেশটির বিমানবাহিনী।

১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল কচ্ছের রণে সংঘর্ষের সময় আরব সাগরের আকাশে একটি অপারেশনাল মিশনে অংশ নিতে গিয়ে শহীদ হন তিনি। তখন এহসানুল করিমের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর।

১৯৪৪ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশের কক্সবাজারের হারবাংয়ে জন্মগ্রহণ করেন ওয়ালিদ এহসানুল করিম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) পাবলিক স্কুল সারগোধায় পড়াশোনা করেন। ১৯৬১ সালে ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি সিনিয়র কেমব্রিজ সম্পন্ন করেন।

১৯৬৩ সালের ২২ জুন পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে ৩৬তম জিডি (পাইলট) কোর্সের মাধ্যমে কমিশন লাভ করেন ওয়ালিদ। প্রশিক্ষণের সময় তিনি উইং আন্ডার অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে টি-৩৩ জেট ও এফ-৮৬ স্যাবার বিমানে উন্নত প্রশিক্ষণ নেন।

পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন ফ্রন্টলাইন স্কোয়াড্রনে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে নং ১৭ স্কোয়াড্রন ‘দ্য টাইগার্স’-এ যুক্ত ছিলেন।

১৯৬৫ সালের ১৯ এপ্রিল করিম যুদ্ধের সময় কচ্ছ অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের সময় শহীদ হন তিনি। এটি ছিল ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের ঠিক পূর্ববর্তী ঘটনা। তার নর্থ আমেরিকান এফ-৮৬ স্যাবার বিমানটি ভোরে ভারতীয় অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট গান দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এতে ইঞ্জিনের গুরুতর সমস্যা হয়।

রাতের দিকে তিনি গুজরাটে গোয়েন্দা মিশন শেষ করে ফেরার সময় বিমানটি করাচির দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ১০-১৫ মাইল দূরে আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়। দিবাকালে তিনি রান অব কচ্ছ অঞ্চলে পাকিস্তানি পদাতিক বাহিনীর আক্রমণ আড়াল করতে স্মোক বোমা নিক্ষেপ করেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর স্ট্রাফিং (নিচু থেকে গুলি চালানো) চালান। তার দেহ বা বিমান উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে দুর্ঘটনার প্রায় দুই মাস পর তার বিমানের রাডারের একটি অংশ পাওয়া যায় এবং সেটি উদ্ধার করা হয়।

ওয়ালিদ এহসানুল করিমের মরদেহ উদ্ধার করা না গেলেও প্রতিবছর তার আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে পাকিস্তান বিমান বাহিনী।

পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওয়ালিদ এহসানুল করিমের কোনো সমাধি না থাকলেও তার আত্মত্যাগ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

তার জীবন ছিল তরুণ বয়সেই দায়িত্ব, সাহস এবং দেশের প্রতি অটল নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, পাকিস্তান বিমান বাহিনী ফ্লাইং অফিসার ওয়ালিদ এহসানুল করিম শহীদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে-তিনি ছিলেন মাটির একজন বীর সন্তান, যার স্মৃতি আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মের বিমানযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

এমআর