আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২২ পিএম
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অনুমতির প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজগুলো এই অনুমতি দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘ইরান যেগুলোকে নিরাপদ বলে মনে করে, শুধু সেই পথগুলোতেই যান চলাচল সীমাবদ্ধ থাকবে এবং সামরিক জাহাজগুলোর জন্য প্রণালীটি অতিক্রম করা এখনও নিষিদ্ধ’।
হরমুজের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পথ খোলা থাকবে, তবে সেগুলোকে ইরানের পক্ষ থেকে নিরাপদ বলে নির্ধারণ করতে হবে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং আইআরজিসি ও ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে নৌচলাচল পরিচালিত হবে।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা করেন, চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময়টুকু বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই তেল পরিবহন পথটি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘লেবাননে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সংগতি রেখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।’
আরাঘচি আরও জানান, ‘ইরানের বন্দর ও সমুদ্র বিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী এই চলাচল অব্যাহত থাকবে’।
এর কিছুক্ষণ পরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, তবে ইরানের বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ বজায় থাকবে।
ট্রুথ স্যোশালে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর ও বহাল থাকবে—এবং তা চলবে যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পূর্ণ হচ্ছে’।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যেহেতু বেশিরভাগ বিষয়েই আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে, তাই এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএইচআর