images

আন্তর্জাতিক

হিজবুল্লাহ ‘কখনোই অস্ত্র ছাড়বে না’, হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চলছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন সরকারের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় দেশটির শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী- হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ একটি মৌলিক দাবি। তবে হিজবুল্লাহর এক শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গোষ্ঠীটি ‘কখনোই, কোনো পরিস্থিতিতেই’ অস্ত্র ত্যাগ করবে না।

বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার দেন হিজবুল্লাহ শীর্ষ নেতা ওয়াফিক সাফা। 

নিরস্ত্রীকরণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সাফা বলেন, ‘যথাযথ, একটি প্রকৃত যুদ্ধবিরতিনা হওয়া পর্যন্ত নয়। ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত নয়। বন্দিদের মুক্তির আগে নয়, বাস্তুচ্যুত মানুষের ফেরার আগে নয় এবং পুনর্গঠন শুরুর আগে নয়। এর আগে হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়।’

image
ওয়াফিক সাফা

সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহ ও তাদের প্রধান আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষক ইরানের মধ্যে সমন্বয়ের একটি বিরল চিত্র উঠে এসেছে।

সাফা বলেন, ‘হিজবুল্লাহ ও ইরান—এক দেহে দুই আত্মা। ইরান ছাড়া কোনো হিজবুল্লাহ নেই, আর হিজবুল্লাহ ছাড়া কোনো ইরান নেই।’ সম্পর্কটিকে তিনি বর্ণনা করেন, ‘ধর্মীয়, আইনি ও আদর্শিক’ হিসেবে।

লেবাননের স্বার্থ না ইরানের স্বার্থ—কোনটি হিজবুল্লাহ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, এমন প্রশ্নে সাফা বলেন, ‘নিশ্চয়ই হিজবুল্লাহ লেবাননের স্বার্থের দিকেই তাকিয়ে আছে।’ 

তিনি যুক্তি দেন, যুদ্ধবিরতির জন্য চাপসহ ইরানি সমর্থন বর্তমান সংঘাতে লেবাননকে সহায়তা করেছে। তবে অনেক লেবাননি—যাদের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সময় বিবিসি কথা বলেছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ—বলছেন, তারা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র দেখতে চান এবং দেশকে সংঘাতে ঠেলে দেওয়ার জন্য গোষ্ঠীটিকেই দায়ী করছেন।

প্রসঙ্গত, শিয়া মুসলিম রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকারকে স্বীকার করে না এবং যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইসরায়েলসহ বহু দেশের কাছে এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর ২ মার্চ ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট ছুড়ে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্ত হয় হিজবুল্লাহ। তাদের দাবি, এটি ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার প্রতিশোধ এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের সর্বশেষ যুদ্ধের পর থেকে লেবাননে প্রায় প্রতিদিন চালানো ইসরায়েলি হামলার জবাব। এর জেরে ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননে আরেকটি স্থল অভিযানে নামে। 

ইসরায়েল জানায়, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের অভিযান চলবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহ যখন নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানিয়ে আরও বিস্তৃত শর্তে অনড়, আর ইসরায়েল যখন তার নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবিতে অটল, তখন যেকোনো যুদ্ধবিরতিই হয়তো দীর্ঘস্থায়ী এক সংঘাতের কেবল সাময়িক বিরতি হয়ে থাকতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর