images

আন্তর্জাতিক

ইউরোপে ফুরিয়ে যাচ্ছে জেট ফুয়েল, হুমকিতে বিমান চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আর মাত্র ছয় সপ্তাহ পরেই সেখানে বিমান চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘ইউরোপের হয়তো আর ছয় সপ্তাহ কিংবা তার কিছু বেশি জেট ফুয়েল অবশিষ্ট আছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেলের সরবরাহ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক না হলে খুব শিগগিরই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটতে পারে।’ 

তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা শুনব যে জেট ফুয়েলের অভাবে শহর ‘এ’ থেকে শহর ‘বি’-এর কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে।’

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশই এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

বিরোল বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার কারণে আমাদের এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে যার প্রভাব পড়বে।’

আইইএ প্রধান আরও বলেন, “অতীতে ‘ডায়ার স্ট্রেটস’ বা চরম সংকট নামে একটি পরিস্থিতি ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি চলছে এবং এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আর এই পরিস্থিতি যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির জন্য তা ততই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। এর ফলে পেট্রোলের দাম বাড়বে, গ্যাসের দাম বাড়বে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে।”

এরআগে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা- এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জ্বালানি ও পরিবহন কমিশনারদের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, ইউরোপ তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতির মুখে পড়তে পারে।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে এবং স্থিতিশীলভাবে শুরু না হয়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেট ফুয়েল সংকট একটি রূঢ় বাস্তবে পরিণত হবে। এর ফলে অনিবার্যভাবে বিমান যোগাযোগব্যবস্থা সংকুচিত হয়ে পড়বে, যা ইউরোপীয় অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করবে। ফলে তেলের দাম বৃদ্ধির যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব, তা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।’ 

সংস্থাটি আরও জানায়, সামনে আসছে গ্রীষ্মকালীন পর্যটন মৌসুম, যা অনেক ইউরোপীয় দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সময়টি তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এপি বলছে, ইউরোপে এখনও সরাসরি জেট ফুয়েলের ঘাটতি দেখা দেয়নি। কারণ যুদ্ধ শুরুর আগে পাঠানো চালানগুলো ইউরোপে পৌঁছাতে থাকায় সরবরাহ কিছুটা বজায় ছিল। তবে সর্বশেষ চালানগুলো ইতোমধ্যেই ইউরোপে পৌঁছে গেছে।

বিমান পরিবহণ শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাভাবিক সময়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে প্রায় ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুত থাকে। তবে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় অতিরিক্ত মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আসা সরবরাহের ঘাটতি পূরণের মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা অন্যান্য সরবরাহকারীদেরও নেই।

সূত্র: এপি, গার্ডিয়ান

এমএইচআর