আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে আনা একটি প্রস্তাব আবারো প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রস্তাবটি ব্যর্থ হলো। আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, তারা প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন চালিয়ে যাবেন।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর এটি ছিল প্রথম ভোট। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত পরবর্তী আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। যদিও উভয় পক্ষই দ্বিতীয় দফা আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। ৭ এপ্রিল তার দেওয়া ‘আজ রাতে পুরো একটি সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে” মন্তব্য নতুন করে কংগ্রেসকে তার যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার দাবি জোরদার করে।
বুধবারের ভোটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫২ ভোটে নাকচ হয়, যা মূলত দলীয় লাইনে বিভক্ত ছিল। রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন, আর ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান এর বিপক্ষে ভোট দেন।
প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে, আর প্রেসিডেন্ট কেবল তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে একতরফাভাবে সামরিক অভিযান চালাতে পারেন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সামগ্রিক কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছে, যার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ভোটের আগে সিনেটর ক্রিস মারফি এই সংঘাতকে ‘অব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তে ভরা যুদ্ধ” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে সরকারের ঘোষিত বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জিত হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।
অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর জিম রিশ বলেন, ট্রাম্প তার সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যেই কাজ করছেন। তিনি প্রস্তাবটিকে “পুরোনো একই ধরনের উদ্যোগ” বলে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্টের দেশের জনগণকে রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে।
এদিকে, প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। কিছু রিপাবলিকান সদস্যের মধ্যেও যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সেখানে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে প্রস্তাবটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই পাস হলেও তা মূলত প্রতীকী হয়ে থাকতে পারে। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটি ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেটো অতিক্রম করতে দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে, যা অর্জন করা কঠিন।
এপ্রিলের শেষে যুদ্ধ ৬০ দিনে পৌঁছালে কংগ্রেসের জন্য আরও বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ১৯৭৩ সালের ওয়্যার পাওয়ার অ্যাক্ট অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসকে সামরিক অভিযানের অনুমোদন দিতে হবে বা ৩০ দিনের জন্য সময় বাড়াতে হবে। অন্যথায়, ট্রাম্পকে আইনত সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে হবে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর