images

আন্তর্জাতিক

তিন সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার হুমকি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড, খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি এই হুমকি দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তাহলে তা হবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি পূর্বসূচনা’।

কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বলেছেন, ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরে কোনও ধরনের আমদানি কিংবা রফতানি কার্যক্রম চলতে দেবে না’। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি কোন কোন দেশের রফতানি ও আমদানি প্রভাবিত হতে পারে।

গত সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ শুরু হয়েছে। বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই অবরোধ অতিক্রম করতে পারেনি এবং ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমান উপসাগরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ সত্ত্বেও, গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে। এই ঘটনাটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ মধ্য দিয়ে নৌ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার ইঙ্গিত দেয়। , 

ডব্লিউএসজে-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে পারস্য উপসাগর থেকে আসা-যাওয়া করা কার্গো জাহাজ, ট্যাঙ্কার এবং কন্টেইনারবাহী জাহাজগুলো সম্প্রতি এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করেছে। যদিও সামগ্রিক জাহাজ চলাচল সংঘাত-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম রয়েছে। 

পত্রিকাটি পরে আরও জানায়, আটটি জাহাজকে জলপথটি অতিক্রম করতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্ভাব্য ইরানি হামলার ঝুঁকি কমাতে কিছু জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। সমুদ্র মাইন এবং হামলার আশঙ্কায় জাহাজ কোম্পানিগুলো এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে চলাচল করতে নিরুৎসাহিত হওয়ায় এর আগে নৌপথে বাণিজ্য তীব্রভাবে মন্থর হয়ে গিয়েছিল।

সূত্র: বিবিসি

এমএইচআর