আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে আলোচনার পর সরাসরি সংলাপ শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনা দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বৈঠক শুরুর সময়ই লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের উত্তরের এক ডজনেরও বেশি শহরে রকেট হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংগঠনটি আগেই এই আলোচনার বিরোধিতা করে আসছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনার লক্ষ্য ছিল লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত নিরসনের একটি কাঠামো তৈরি করা। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, এই সংঘাত বিস্তৃত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা অংশ নেন। এটি ১৯৯৩ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের সরাসরি আলোচনা।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এটি একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও ইতিহাস আলোচনাকে জটিল করে তুললেও টেকসই শান্তির জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা ‘লেবাননের জনগণের কষ্টের অবসানের সূচনা’ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে এবং সব পক্ষ পারস্পরিক সম্মত সময়ে ও স্থানে সরাসরি আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েহিয়েল লেইটার বৈঠককে ‘দারুণ আলোচনা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষ ‘একই অবস্থানে’ রয়েছে এবং লেবাননকে হিজবুল্লাহ থেকে মুক্ত করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছে।
অন্যদিকে লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদে মাওয়াদ আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেবাননের ভূখণ্ডে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
ইসরায়েল বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। দেশটির সরকার বলছে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা ছাড়া যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, ইসরায়েল শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক চায়, তবে হিজবুল্লাহকে ‘প্রধান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে এর সমাধানের ওপর জোর দেন।
বৈঠকের আগে হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম আলোচনাটি বাতিলের আহ্বান জানান এবং সংগঠনটি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ১৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উভয় পক্ষকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনা ছিল ‘ফলপ্রসূ’ এবং সরাসরি সংলাপ শুরুর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। সূত্র: বিবিসি।
এমআর