আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
৪০ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি) ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছে ইরান সরকার। হামলায় দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এবং বেসামরিক অবকাঠামোসহ শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও সেতুসহ বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে, বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
রাশিয়ার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, প্রাথমিক ও আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার বা ১৮৯ বিলিয়ন পাউন্ড।
তিনি জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভবন ধ্বংসের ক্ষতি এবং শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় রাজস্ব ক্ষতির হিসাব।
মোহাজেরানি আরও বলেন, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও জানানো হয়েছে। যদিও পাকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলেও দু’পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি।
এরআগে রোববার ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ১ লাখ আবাসিক ভবন, ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান-দোকান, ৯৪২টি স্কুল এবং ৩৩৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০টি বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত বেসামরিক স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন করতে তিন থেকে ২৪ মাস সময় লাগতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, হামলায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকরা তাদের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের জন্য আবাসন ঋণের সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন।
এরআগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৬ থেকে ১০ লাখ ইরানি পরিবারের কমপক্ষে ৩২ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অধিকাংশই নিরাপত্তার জন্য তেহরান এবং প্রধান শহরাঞ্চল ছেড়ে গ্রামীণ এলাকায় পালিয়ে গেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর