আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সকল নৌযানের ওপর অবরোধ আরোপের হুমকি প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা হয় সবার জন্য, নয়তো কারোর জন্যই নয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিধিনিষেধ অবৈধ এবং জলদস্যুতার শামিল।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে একটি স্বাভাবিক ও আইনগত কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজের জলসীমায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির একটি স্বাভাবিক অধিকার।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও বলেছে, সমস্ত ‘শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট) জাহাজকে’ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না, তবে তেহরান নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করবে।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি সমস্ত বন্দরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ প্রয়োগ করা হবে।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা 'বাধা সৃষ্টি করবে না', যা পুরো প্রণালি অবরোধ করার ট্রাম্পের হুমকি থেকে এক ধাপ কম।
বিশ্লেষরা বলছেন, এই অবরোধের উদ্দেশ্য সম্ভবত ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, কারণ দেশটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল রফতানি করেছে, যার বেশিরভাগই সম্ভবত তথাকথিত ট্রানজিটের মাধ্যমে পরিবাহিত হয় এবং পশ্চিমা সরকারের নিষেধাজ্ঞা ও তদারকি এড়িয়ে যায়।
সামুদ্রিক তথ্য ও গোয়েন্দা সংস্থা- লয়েড'স লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের ঘোষণার ফলে যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালিতে সীমিত জাহাজ চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে।
সামুদ্রিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, গত বৃহম্পতিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে, যা যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ চলাচলের তুলনায় অনেক কম।
সূত্র: আলজাজিরা, এনডিটিভি
এমএইচআর