আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অবরোধে যুক্তরাজ্য অংশগ্রহণ করবে না। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এবং সৈন্যদের ইরানের বন্দর অবরোধ করার কাজে ব্যবহার করা হবে না। তবে ব্রিটিশ মাইন অপসারণকারী জাহাজ এবং ড্রোন-প্রতিরোধী ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, ‘চাপ যে ধরনেরই হোক না কেন, যুক্তরাজ্যকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে নেওয়া যাবে না এবং দেশটি হরমুজ প্রণালির কোনো প্রকার অবরোধকে সমর্থন করবে না’।
স্টারমার আরও বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা যেন প্রণালিটিকে পুনরায় এবং সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত করতে পারি। গত কয়েক দিন ধরে আমরা সেই লক্ষ্যেই আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা নিয়োজিত করেছি এবং আমরা তা অব্যাহত রাখব।’
ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘আমরা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করে যাচ্ছি, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা সব ধরনের জাহাজ চলাচলে অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে ইরানি বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ করতে যাচ্ছে।’
মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা 'বাধা সৃষ্টি করবে না' বলে জানিয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ‘মার্কিন হুমকির মুখে নতি স্বীকার করবে না ইরান’।
মার্কিন অবরোধের ঘোষণার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘বর্তমান জ্বালানি তেলের দাম উপভোগ করে নিন। আপনাদের এই তথাকথিত 'অবরোধের' কারণে শীঘ্রই আপনারা চার বা পাঁচ ডলারের পেট্রোলের অভাব বোধ করবেন।’
পৃথকভাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
এমএইচআর