আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বসানো সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের মাইন স্থাপনকারী ২৮টি জাহাজ এরই মধ্যে সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে’।
ট্রাম্প লেখেন, ‘চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতি ‘উপকার’ হিসেবে আমরা এখন হরমুজ প্রণালী পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া শুরু করছি’।
পোস্টে এসব দেশগুলোর এই ধরনের পদক্ষেপ (মাইন অপসারণ) নেওয়ার সাহস বা ইচ্ছাশক্তির অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে ট্রাম্পের পোস্টের কয়েক মিনিট আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ চলাচলের খবর আসতে শুরু করে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, শনিবার ‘বেশ কয়েকটি’ মার্কিন জাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, উপসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমদিকে তাদের যুদ্ধজাহাজটি গেছে। এরপর হরমুজ পার হয়ে আরব সাগরে এসেছে এটি।
এদিকে এই প্রতিবেদনের প্রকাশের কিছুক্ষণ পরেই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দেশটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তার দেওয়া খবর অস্বীকারের কথা জানায়।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজই হরমুজ দিয়ে পার হয়নি।
এরআগে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিক হারে জাহাজ চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে পারছে না, কারণ তারা নিজেরাই পানিপথে পেতে রাখা সমস্ত মাইনের অবস্থান শনাক্ত করতে পারছে না এবং সেগুলো অপসারণের সক্ষমতা তাদের নেই।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রণালি দিয়ে অধিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার যে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইরান তা দ্রুত পালন করতে না পারার পেছনে এই বিষয়টি অন্যতম প্রধান কারণ।
এছাড়া চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনার জন্য ইরানের আলোচক দল এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের ক্ষেত্রেও এটি একটি জটিল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পরপরই দেশটি ছোট ছোট নৌকার সাহায্যে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করেছিল।
এই মাইনগুলোর পাশাপাশি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির ফলে তেলবাহী ট্যাংকার ও অন্যান্য জাহাজের চলাচল একেবারেই কমে যায়, যা জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয় এবং যুদ্ধে ইরানকে একটি বড় দরকষাকষির সুযোগ করে দেয়।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে যে জাহাজগুলো নৌ-মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়তে পারে। পাশাপাশি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো নিরাপদ নৌপথ দেখিয়ে মানচিত্রও প্রকাশ করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ওই রুটগুলো অত্যন্ত সীমিত কারণ ইরান অত্যন্ত এলোমেলোভাবে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করেছে। এটি স্পষ্ট নয় যে ইরান প্রতিটি মাইন কোথায় রেখেছে তার সঠিক রেকর্ড রেখেছে কি না।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, যেসব মাইনের অবস্থান রেকর্ড করা হয়েছিল, সেখানেও কিছু মাইন এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যা পানির স্রোতে ভেসে যেতে বা স্থান পরিবর্তন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, স্থল মাইনের মতোই সমুদ্রের মাইন অপসারণ করা মাইন স্থাপনের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। মার্কিন সামরিক বাহিনীরও শক্তিশালী মাইন অপসারণ সক্ষমতার অভাব রয়েছে এবং তারা মাইন সুইপিং সক্ষমতা সম্পন্ন ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ এর ওপর নির্ভর করে। ইরানের ক্ষেত্রেও তাদের নিজস্ব মাইনগুলো দ্রুত অপসারণ করার মতো প্রযুক্তি বা সক্ষমতা নেই।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
এমএইচআর