images

আন্তর্জাতিক

ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ের খবর অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আগেই কাতার ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র— একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের তহবিল ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

এরআগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে আরো জানান যে, সম্পদ ছাড়ার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার সাথে সম্পর্কিত, যা সম্ভবত এই আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দ্বিতীয় একটি ইরানি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে থাকা জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি তহবিল ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। ২০১৮ সালে এসব তহবিল জব্দ করা হয়েছিল। 

রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১৮ সালে প্রাথমিকভাবে জব্দ করা এই ৬০০ কোটি ডলার মার্কিন-ইরান বন্দি বিনিময়ের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন তহবিলটি পুনরায় জব্দ করে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, ইরান অদূর ভবিষ্যতে ওই অর্থের নাগাল পাবে না এবং অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণভাবে জব্দ করার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

এই তহবিলটি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রি থেকে এসেছে এবং ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর তা দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে আটকে গিয়েছিল। তবে বাইডেনের আমলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অধীনে অর্থ কাতারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছিল। 

মার্কিন কর্মকর্তারা সে সময় বলেছিলেন, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক ব্যবহারের জন্য এবং মার্কিন ট্রেজারির তত্ত্বাবধানে ইরানে পাঠানো খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষি পণ্যের জন্য অনুমোদিত বিক্রেতাদের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও মার্কিনিদের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বহু দেশে আটকে আছে।

এদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ দাবি করেছেন, আলোচনায় বসার আগে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফেরত দেওয়া জরুরি। তিনি পাকিস্তান সফরের আগেও বলেছিলেন, আলোচনার শর্ত হিসেবে লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

এমএইচআর