আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে আরো কঠোর ও বিধ্বংসী হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানে সম্ভাব্য হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদে সজ্জিত করা হচ্ছে। তিনি এ সামরিক প্রস্তুতিকে ‘রিসেট’ বা নতুন কৌশলগত বিন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ওয়াশিংটন একটি রিসেট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত গোলাবারুদ ও অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে, যেগুলো আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী।’
সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে এসব সামরিক সক্ষমতা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পৃথক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ‘কোনো শক্ত অবস্থান নেই’ এবং তারা আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহার করে বিশ্ব থেকে অর্থ আদায় করছে।
তিনি আরো লেখেন, আলোচনায় বসার সুযোগ করে দিতে ইরানের কিছু নেতাকে এখনো ‘বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে’।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অতীতের ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলা হয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আগেও আলোচনার মাঝপথে হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধাপরাধ করেছে বলে তাদের অভিযোগ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের আস্থা নেই।’ গালিবাফ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিকারের চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানি জাতির অধিকার মেনে নেয়, তাহলে ইরানও একটি সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকার সঙ্গে আমাদের আলোচনার অভিজ্ঞতা সব সময়ই ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন ছাড়া কিছুই হয়নি।
শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন ইরানের প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার।
এমআর