আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১১ এএম
ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বাংলাদেশ সকাল ৬টা ৭ মিনিটে (যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা ৭ মিনিট) তাদের বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার মানুষের চাঁদের চারপাশ ঘুরে আসার ঐতিহাসিক মিশন সম্পন্ন হলো।
নাসার আর্টেমিস–২ মিশনের এই সাফল্যকে মহাকাশ অভিযানের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিনা কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেনকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই মহাকাশযাত্রা।
১০ দিনের এই অভিযানে তারা চাঁদের অদৃশ্য পেছনের অংশ ঘুরে গভীর মহাকাশে বিভিন্ন প্রযুক্তি পরীক্ষা করেন। এরপর পৃথিবীর দিকে ফিরে আসেন।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চগতিতে পুনঃপ্রবেশের পর চার নভোচারীকে বহনকারী ‘ওরিয়ন’ মহাকাশযানটি সমুদ্রে নামে। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল উদ্ধারকারী দল।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস-২ ল্যান্ডিং অ্যান্ড রিকভারি ডিরেক্টর লিলিয়ানা ভিয়ারিয়াল বলেছেন, সমুদ্রে অবতরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে নভোচারীদের ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে উদ্ধার করা হবে। এরপর তাদের মার্কিন নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘ইউএসএস জন পি মুরথা’র মেডিকেল বে-তে পৌঁছে দেওয়া হবে।
১৯৭২ সালের অ্যাপোলো–১৭-এর পর এটিই ছিল চাঁদ ঘিরে মানুষের প্রথম মিশন। নাসার ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই অভিযানে বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক দিকও রয়েছে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-আমেরিকান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।

মিশন চলাকালে তারা চাঁদের পৃষ্ঠের নানা বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে সৌরগ্রহণ ও উল্কাপিণ্ডের আঘাতের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন।
সমুদ্রে অবতরণের (স্প্ল্যাশ ডাউন) পর আর্টেমিস-২-এর কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতরে থাকা নভোচারীদের অবস্থা সম্পর্কে একটি ইতিবাচক প্রতিবেদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কী অসাধারণ এক যাত্রা ছিল। আমরা স্থিতিশীল আছি। চার নভোচারীই সম্পূর্ণ সুস্থ (গ্রিন) আছেন।’
রিড ওয়াইজম্যান আরো বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, অন্তত কিছুক্ষণের জন্য হলেও পৃথিবীর মানুষ থেমে যাক এবং উপলব্ধি করুক-আমাদের এই গ্রহ কতটা সুন্দর ও বিশেষ।’
ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান, বিশেষ করে আর্টেমিস–৪ মিশনের প্রস্তুতিতে এই মিশনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমআই/এমআর