আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে তীব্র বাক্যবিনিময় চলছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা বারবার অভিযোগ করছেন, তৃণমূল সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে এই ইস্যুতে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলের সংসদ অভিষেক ব্যানার্জি দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলেছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করার নীতি নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে অভিষেক ব্যানার্জি অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমরা যদি অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলি, তবে গত দেড় বছর দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি অনুপ্রবেশকারী, নাকি শরণার্থী?’ তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শেখ হাসিনার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানোর দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিষেক আরও বলেন, ‘অমিত শাহ স্বীকার করেছেন, বিজেপি যদি বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তবে বাংলা দিল্লি ও গুজরাট থেকে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শাসন করার চেয়ে গুজরাট থেকে শাসন করা অনেক ভালো। এর অর্থ কলকাতা বাংলাদেশি! বাংলাকে যদি কেউ বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে, সেটা দেখছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে, তবে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কী করছেন? গত দেড় বছর ধরে নরেন্দ্র মোদির সরকার তাকে কী কারণে আশ্রয় দিয়েছেন? শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী, নাকি শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন?’
তৃণমূল সংসদ কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি গত ১০ বছর ধরে অনুপ্রবেশের ক্যাসেট বাজিয়ে আসছে। তারা যদি সত্যিই অনুপ্রবেশ আটকাতে চায়, তবে কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে কে দায়িত্বে ছিল? সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে ২৬ জন ভারতীয়র প্রাণ গেল কেন? দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণে ১০ জন নিরীহ মানুষ মারা গেল কেন? এসব ব্যর্থতার জবাব কে দেবে?’
এমআই