images

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে ভোট: অনুপ্রবেশ ঠেকানোসহ ইশতেহারে ১৫ প্রতিশ্রুতি বিজেপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জিতলে বিজেপি যদি সরকার গঠন করে, তাহলে তারা ‘জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে’ বলে ঘোষণা দিয়েছে দলটি। 

শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ ‘বিজেপির সংকল্প পত্র’ নাম দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেন। সেখানেই ১৫টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে এই ঘোষণা করা হয়েছে। 

ইশতেহারের বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, ‘এই সংকল্পপত্র বাংলাকে নিরাশা থেকে বের করে দিশা দেখাবে। মহিলা থেকে কৃষক সবস্তরের মানুষকে আলো দেখাবে। বিকশিত ভারতের রোডম্যাপ সংকল্পপত্র। রবীন্দ্র জয়ন্তীতে নতুন বাংলা গঠন করা হবে।’

c43befa23b4cb8fb08bf0ad212cf9251-69d8ef77b62a1.jpg?jadewits

ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে, রাজ্যের সব সরকারি চাকরিতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ বা এক তৃতীয়াংশ চাকরি সংরক্ষিত করা হবে। এছাড়াও নারীদের জন্য মাসিক ভাতা বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন বলে ঘোষণা করেছে দলটি।

বর্তমানে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' নামে একটি প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা মাসিক ভাতা দিয়ে থাকে নারীদের। আবার 'যুবসাথী' নামেও যুবক-যুবতীদের জন্য একটি প্রকল্প আছে। তবে, কিছু বাড়তি সংযোজনও রয়েছে। যেমন– প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য যুবক-যুবতীদের ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা। ‘স্টার্ট আপ’ তৈরি করতে ১০ লক্ষ টাকা ঋণ। অবিবাহিত ছাত্রীদের স্নাতক স্তরে ভর্তির সময়ে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়াও বিজেপি ক্ষমতায় এলে তারা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদেরও কেন্দ্রীয় সরকারি হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার কথাও বলেছে। এই মুহুর্তে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রের তুলনায় অনেক কম হারে ডিএ পেয়ে থাকেন।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই ধাপে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে। বিজেপি যদি সেই নির্বাচনে জিততে পারে তাহলে তারা প্রথমবারের জন্য রাজ্যে ক্ষমতা দখল করবে।

এদিকে শুক্রবার বিজেপির সংকল্পপত্র প্রকাশের পর তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বিজেপিকে ‘কপি ক্যাট’ অ্যাখ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ যা ভাবেন, তা গোটা ভারত, বিজেপি আগামিকাল, আগামী পরশু, পরের মাসে, পরের বছর, ৫ বছর পরে ভাবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে কত কুৎসা করেছে। ভিক্ষা, মা-বোনেদে অপমান বলেছে। মমতা যখন মহিলাদের জন্য নানা প্রকল্প করেছে, তখন কুৎসা করেছে। পরবর্তীকালে দেখা যাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে সেগুলো চালু করেছে। আবার এখন নিজেরাই নিজেদের প্রতিশ্রুতিতে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে। মানুষ এসব কপি ক্যাট, জেরক্স কপি নেবেন কেন? মানুষের কাছে অরিজিনাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন রয়েছে।’


এমএইচআর