আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেউপি) প্রধান হুমায়ুন কবীরের একটি ‘গোপন’ ভিডিও প্রকাশ করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে বিজেপির সঙ্গে হুমায়ুনের ‘গোপন আঁতাত’-এর কথা উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে কথিত এই ‘স্টিং অপারেশন’-এর ভিডিও প্রকাশ করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল দাবি করেছে, মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ১৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে জনৈক এক ব্যক্তির সঙ্গে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে দেখা যায়। সেখানে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে এজেউপি ৭০-৮০টি এবং বিজেপি ১০০-১২০টি আসন পেলে তিনি বিজেপিকে সরকার গঠনে সহায়তা করবেন। বিনিময়ে তাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ দেওয়া হবে।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ... এই কারণেই আমি জেনেশুনে বাবরি মসজিদ নাম বেছে নিয়েছি।’
তবে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর।
এদিকে ‘গোপন কথা’ ফাঁস হতেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট ভেঙ্গে দিলেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)-এর প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তার দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম) একক ভাবেই লড়াই করবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার ভোরে সামাজিক মাধ্যমে এক্স একটি পোস্ট করে এই ঘোষণা করা করে এআইএমআইএম। পরে পোস্টটি শেয়ার করেন ওয়েইসি নিজেও।
পোস্টে লেখা হয়, ‘মুসলিমদের আত্মসম্মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না মিম। আজ থেকে মিম (হুমায়ুন) কবীরের দলের সঙ্গে জোট ভেঙে দিচ্ছে।’
ওয়াইসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হুমায়ুন বলেন, ‘উনি (ওয়াইসি) এই সিদ্ধান্ত নিতেই পারেন। এই ব্যাপারে আমি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নই। ওয়াইসি সাহেবকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে সম্মান করি। তার প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা রয়েছে। ভবিষ্যতেও থাকবে। গত ২৫ মার্চ কলকাতায় আমার সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে উনি জোট গড়ে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা বলেছিলেন। আমি যতদূর জানি, মোট ১৪টি আসনে তার দল মনোনয়ন তুলেছে।’
অন্যদিকে নকল ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন হুমায়ুন।
বৃহস্পতিবারই হুমায়ুন দাবি করেছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে হাইকোর্টে মামলা করারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক।
শুক্রবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তৃণমূল একটা কারসাজি করেছে। আমার উল্টো দিকে কোন ব্যক্তি বসে, তা যাচাই করা হয়নি।’
এই ভিডিও ভোটে কোনো প্রভাব ফেরবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন বলেন, ‘আমি ভীত নই, চিন্তিতও নই। আমার দল ১৮২টি আসনে লড়ছে। সেখানে যথাযথ ভাবে প্রচার চলবে। আমি আশাবাদী যে, আমরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করে দেখাব। মানুষ আমাকে সমর্থন করবে।’
উল্লেখ্য, দলবিরোধী কাজ এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হুমায়ুনকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর গত বছরের ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। এরপরই গড়েন নিচের নতুন দল- আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেউপি)।
তবে তৃণমূলের দাবি, মুসলিম ভোট কাটাকাটি করে বিজেপিকে জেতাতেই ‘বি’ এবং ‘সি’ টিম হিসেবে এই দলগুলো মাঠে নেমেছে। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ভোট কেনাবেচার লক্ষ্যেই তিনি এই পরিকল্পনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই ধাপে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর