images

আন্তর্জাতিক

ইসরায়েল কেন লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে এটা মানতে বাধ্য করতে পারেন যে, লেবাননও ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। আর সেই পরিস্থিতি আসার আগেই ইসরায়েল লেবাননে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন কেউ কেউ।

আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। কারণ ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মতো লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। তাই লেবাননে হামলা চালিয়ে এই নাজুক চুক্তিটি বানচাল করতে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছেন নেতানিয়াহু।

লেবাননের ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হলো দেশটির শক্তিশালি সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হুমকি নিশ্চিহ্ন করা, বিশেষ করে উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা বন্ধ করা। এই লক্ষ্যে ইসরায়েল সেখানে স্থলবাহিনী পাঠিয়েছে এবং ঘোষণা করেছে, লিতানি নদীর দক্ষিণ অংশ দখল করে একটি ‘নিরাপত্তা বাফার জোন’ তৈরি করবে ইসরায়েল।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শুরু হয়েছে, যা আগে ১৯৮২ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ছিল। ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকার ঘরবাড়ি ও গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে, যেখানে তাদের দাবি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা সক্রিয়। এতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 

ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিজবুল্লাহকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তাদের সৈন্যরা ফিরবে না। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ‘যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই’ হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাবে ইসরায়েলি বাহিনী। 

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা শক্তি, নির্ভুলতা ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের বার্তা স্পষ্ট। যারা ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবে– আমরা তাদের ওপর আঘাত হানব।’

তিনি আরও বলেন, “উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার না করা পর্যন্ত, যেখানেই প্রয়োজন হবে আমরা হিজবুল্লাহর ওপর আঘাত হানতে থাকব”।

এদিকে হিজবুল্লাহর ওপর ইসরায়েলের কঠোর হামলা চললেও এই গোষ্ঠীটির এখনো ইসরায়েলে হামলা করার ক্ষমতা রয়েছে। তাই শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে ইসরায়েল লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কি না, তা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেটি একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ এবং এর ফলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা তুলে ধরছে।

এরআগে গতকাল বুধবার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে। আহত হয়েছেন ১ হাজারের বেশি মানুষ।

অন্যদিকে অবিলম্বে লেবাননে হামলা বন্ধ করতে ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামীক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতি আইআরজিসি বলেছে, ‘আমাদের প্রিয় লেবাননের ওপর আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে, আমরা এই অঞ্চলের দুষ্ট আগ্রাসনকারীদের কঠোর জবাব দেব।’

অন্যদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলেছেন, ‘লেবাননের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করার জন্য আমরা আজকের দিন পর্যন্ত সময়সীমা ঘোষণা করছি। যদি এই আক্রমণ অব্যাহত থাকে, তবে আগামী শুক্রবারের আলোচনা আমাদের পক্ষ থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে এবং আমরা তাতে অংশ নেব না।’

এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন, ‘লেবাননে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।’

সূত্র: বিবিসি


এমএইচআর