images

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় এবার ন্যাটোর সাহায্য চান ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৪ পিএম

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে। এবার পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোকে এ বিষয়ে সহায়তার জন্য দৃশ্যমান ও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন তিনি।  

বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় দুই কূটনীতিক ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জোটভুক্ত কয়েকটি দেশের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প “আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে সহায়তার জন্য দৃশ্যমান ও নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি চান’।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ঘিরে ন্যাটোর ভেতরে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্ক রুটে।

কূটনীতিকদের একজন রয়টার্সকে বলেন, ‘ওয়াশিংটনে যে অসন্তোষ ও হতাশা রয়েছে, তা আমরা বুঝি। তবে এই যুদ্ধ শুরুর আগে কিংবা পরে—কোনো সময়েই যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেনি।’

এ নিয়ে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও।  নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘এদের কেউই—এমনকি আমাদের নিজেদের লোকজনও—খুব একটা হতাশাজনক নয়; চাপ প্রয়োগ না করা হলে ন্যাটো কিছুই বোঝে না’।

এদিকে গতকাল বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে ইরান। ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের বার্তা, ‘যুদ্ধ’ ও ‘যুদ্ধবিরতি’ একই সঙ্গে চলতে পারে না। যেকোনও একটা বেছে নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরান যুদ্ধ শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রণালি হাজার হাজার বছর ধরে খোলা ছিল। এটি কোনো আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং সেখানে নিরাপদ চলাচল ইরান ও ওমানের ‘সদিচ্ছার’ ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্র ‘বাস্তবে এই আগ্রাসন থেকে সরে না এলে’ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত, লেবাননে ইসরায়েলের হামলার কথাই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সাংবাদিক নিক রবিনসন জানতে চান, নিরাপদ চলাচল বলতে কি বোঝানো হচ্ছে যে ইরান কি প্রণালি দিয়ে যাওয়া প্রতিটি জাহাজ থেকে ফি আদায় করবে না, কিংবা জাহাজ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেবে না? জবাবে ইরানের মন্ত্রী বলেন, ইরান চায় প্রণালিটি ‘শান্তিপূর্ণ’ থাকুক। 

তিনি আরও যোগ করেন, ইরান আন্তর্জাতিক রীতি ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলবে। নিরাপদ চলাচল একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়, এবং উপসাগরকে যেন যুদ্ধজাহাজের মাধ্যমে ‘অপব্যবহার’ করা না হয়—তা ইরান মেনে নেবে না।

এদিকে মেরিন ট্র্যাফিকের জাহাজ ট্র্যাকিং এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মঙ্গলবার রাতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে অন্তত নয়টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুইটি তেল ও রাসায়নিক ট্যাংকারও রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


এমএইচআর