আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ পিএম
যুদ্ধ-উত্তেজনার স্থায়ী অবসানে পাকিস্তানে রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামীকাল শুক্রবার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স- এ দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত। তবে সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলেছেন তিনি, এতে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকটি আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোঘাদাম তার এক্স পোস্টে জানান, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে যোগ দিতে আজ রাতে ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হচ্ছে ইরানি প্রতিনিধি দল।
তিনি লিখেছিলেন, ‘কূটনৈতিক উদ্যোগকে বানচাল করতে ইসরায়েলে ক্ষমতাসীনরা বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তার ফলশ্রুতিতে (যুদ্ধাবসান সংলাপ নিয়ে) ইরানি জনগণ সন্দিহান। তবে তা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য ইরানি প্রতিনিধিদল আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে আসছে।’

তবে কয়েক ঘণ্টা পরই সেই পোস্টটি মুছে ফেলেছেন ইরানি রাষ্ট্রদূত, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই বুধবার (৮ এপ্রিল) ১০ মিনিটে ইসরায়েল শতাধিকবার লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় ইরান হুঁশিয়ার করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে, ইসরায়েলের ওই বেপরোয়া হামলা চলতে থাকলে ইরানও কঠোর জবাব দেবে।
ইরানের অভিযোগ, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়া ইরানে ড্রোন হামলারও অভিযোগ তুলেছে তারা। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েও শর্তখেলাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। হয় যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা। দুটি একসঙ্গে চলতে পারে না। লেবাননের গণহত্যা সমস্ত বিশ্ব দেখছে।’
অন্যদিকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ইসলামাবাদে আলোচনায় ইরানের পক্ষে তারই নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স।
এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, ‘ইসরায়েল ইতোমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে। এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।’
অন্যদিওকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি না মানলে ইরানে আবার হামলা শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যদি কোনো কারণে তা না হয় (চুক্তি মানা না হয়), তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম; তাহলে ‘গোলাবর্ষণ শুরু হবে’। আরও বড়, আরও ভয়াবহ এবং আরও শক্তিশালীভাবে তা হবে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’
চুক্তি পুরোপুরি না মানা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানের আশপাশে অবস্থান করবে বলে জানিয়ে তিনি আরো লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সব জাহাজ, উড়োজাহাজ, সামরিক সদস্য, অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রশস্ত্র ইরানের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থান করবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চুক্তি পুরোপুরি মানা হচ্ছে’।
দুই পক্ষের হুমকি, পাল্টা হুমকির ঘটনায় বিশ্ববাসী আবারো শঙ্কিত, যুদ্ধবিরতি কি আসলে ভেস্তে যাচ্ছে। দুই পক্ষ কি তাহলে নিজেদের রসদ যোগানোর জন্য ওই সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা
এমএইচআর