আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩২ এএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
লেবাননের রাজধানী বৈরুত, বেকা ভ্যালি এবং দক্ষিণ লেবাননজুড়ে চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১,১৬৫ জন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে শোক পালনের ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবারের এই রক্তক্ষয়ী হামলার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম জানিয়েছেন, ‘ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে লেবাননের সব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পদ কাজে লাগানো হচ্ছে।’
লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় বিপুল বেসামরিক হতাহতের চাপ সামলাতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলের এই হামলার জেরে যুদ্ধবিরতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকলে তারা এ থেকে বেরিয়ে যাবে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এতে সমর্থন জানায় ইসরায়েল। তবে তারা জানিয়ে দেয়, এই যুদ্ধবিরতি ইরানে কার্যকর হবে, লেবাননে নয়।
যদিও ইরান ও আলোচনায় সহযোগিতা করা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে। তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তার আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। একই সুরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও বলেন, ‘আমরা এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেইনি।’
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার শর্ত স্পষ্ট। তার ভাষায়, ‘ওয়াশিংটনকে বেছে নিতে হবে’ যুদ্ধবিরতি, নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া; দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়।
এমআর