আহমদ ইশতিয়াক আনাম
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলার খবরে গভীউদ্বেগ জানিয়েছেন আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সংঘাতপূর্ণ এলাকার কয়েকটি স্থানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আন্তরিক ও দৃঢ়ভাবে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—সম্মতিসূচক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই সপ্তাহের জন্য সংযম প্রদর্শন করুন এবং যুদ্ধবিরতি মেনে চলুন, যাতে কূটনীতি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে নেতৃত্ব দিতে পারে।’
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা মধ্যেই ইরানের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের সংবাদমাধ্যম শানা এক প্রতিবেদন জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ওয়েল রিফাইনারি অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানি নিশ্চিত করেছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে শোধনাগারটি ‘শত্রু হামলায়’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, এতে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ দলগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ও এলাকাটি সুরক্ষিত করতে কাজ করছে।
এছাড়াও ইরাক, কুয়েত ও কাতারের কয়েকটি স্থানে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এতে কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে এই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। কিন্তু লেবানন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমন পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
এরআগে বুধবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, পাকিস্তানের অনুরোধে তিনি ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরান ১০ দফা একটি প্রস্তাব দিয়েছে যা আলোচনার জন্য একটি ‘কার্যকর ভিত্তি’ এবং তিনি আশা করেন যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন একটি চুক্তি চূড়ান্ত ও সম্পন্ন’ হবে।
পরে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করে। এই চুক্তি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুরো প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে।
ট্রাম্প ও ইরানের ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সকল বিরোধ নিষ্পত্তি ও একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আলোচনার জন্য তাদের প্রতিনিধিদলকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানান।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর