images

আন্তর্জাতিক

লেবাননে ১০ মিনিটে শতাধিক বিমান হামলা ইসরায়েলের, বহু হতাহত  

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক হামলা অব্যাহত রয়েছে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে রাজধানী বৈরুত ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে ১০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালায় দখলদার বাহিনী। এতে কয়েকশ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘১০ মিনিটের মধ্যে এবং একযোগে একাধিক এলাকায় হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বৃহত্তম সমন্বিত হামলাটি সম্পন্ন হয়েছে।’ 

এতে আরও বলা হয়েছে, ‘আক্রান্ত অবকাঠামোর বেশিরভাগই বেসামরিক জনগোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ছিল এবং হিজবুল্লাহর সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের ক্ষতি যথাসম্ভব কমানোর জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

image

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টারগুলোতে থাকা শত শত সন্ত্রাসীর ওপর একটি আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। 

পেজার বোমা ব্যবহার করে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের একটি বড় অভিযানের কথা উল্লেখ করে কাটজ একটি ভিডিও বিবৃতিতে আরও বলেন, ‘অপারেশন বিপার্সের পর এটিই হিজবুল্লাহর ওপর সবচেয়ে বড় ও সুসংহত আঘাত।’

হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেমকে হত্যার হুমকি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা নাঈম কাসেমকে সতর্ক করেছিলাম যে, ইরানের হয়ে ইসরায়েলে হামলা চালানোর জন্য হিজবুল্লাহকে কঠিন মূল্য দিতে হবে, আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতির আরও একটি ধাপ পূরণ করলাম। শীর্ষ সন্ত্রাসী নাঈম কাসেমের ব্যক্তিগত সময়ও ঘনিয়ে আসবে।’

এদিকে লেবাননের রেড ক্রস জানিয়েছে, তাদের ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স হামলা মোকাবেলায় নিয়োজিত রয়েছে এবং তাদের দলগুলো আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ করছে।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাকান নাসেরেদ্দিন আল জাজিরাকে বলেছেন ‘বৈরুতে ও অন্যান্য জায়গায় ইসরায়েলের হামলার কারণে হাসপাতালগুলো নিহত ও আহত মানুষে ভরে উঠেছে।’

লেবাননে আল জাজিরা আরবির ব্যুরো প্রধান মাজেন ইব্রাহিম বলেছেন, ১৯৮২ সালে ইসরায়েলের বৈরুত আক্রমণের কথা অনেকের মনে পড়েছে। বৈরুতের এমন সব এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল, যেগুলোকে ঐতিহ্যগতভাবে হিজবুল্লাহর সাথে কোনোভাবেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হয় না।

image

ইসরায়েল ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালাচ্ছে এবং অসহায় বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে উল্লেখ করে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বলেছেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধের সকল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করছে। পাশাপাশি তারা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নীতিগুলোকেও চরম অবজ্ঞা করছে, যা তারা কোনোকালেই মেনে চলেনি।’

লেবাননের সকল মিত্র ও আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীদের সম্ভাব্য সকল উপায়ে ইসরায়েলের এই আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

মুলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। দুইদিন পরই ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি ভূখণ্ডে হামলা চালায় লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর। প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে অবিরত হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।  

দীর্ঘ ৩৯ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধ অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে এই চুক্তিতে লেবানন ফ্রন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল লেবানিজ সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। কিন্তু লেবানন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমন পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

সূত্র: আলজাজিরা


এমএইচআর