আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৫ এএম
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল বুধবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মানে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ নয়।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে।
এই প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে। খবর সিনহুয়া ও তাসনিম নিউজের।
ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়গুলো আলোচনায় চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে বলে দেশটি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি ১০ দফা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে।
প্রথম দফায় ইরান চাইছে, যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত করুক যে ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন চালানো হবে না।
দ্বিতীয় দফায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রাখতে হবে। ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ‘নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের’ প্রস্তাব দিয়েছে।
এটি কার্যকর হলে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে ইরানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হবে। এ ছাড়া তারা একটি ‘নিরাপদ ট্রানজিট প্রোটোকল’ তৈরির দাবি করেছে যা এই প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত করবে।
তৃতীয় দফায় ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণের অধিকার মেনে নিতে হবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম দফায় ইরানের ওপর আরোপিত সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
ষষ্ঠ দফায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সপ্তম দফায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার গভর্নর বোর্ডের ইরানবিরোধী সব প্রস্তাবও বাতিল করার দাবি তোলা হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদের সব নেতিবাচক প্রস্তাবনা প্রত্যাহারের শর্ত দেওয়া হয়েছে।
অষ্টম দফায় যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
নবম দফায় এই অঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব যুদ্ধ বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে। দশম ও শেষ দফায় লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করতে হবে।
-এমএমএস