আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও নিজেদের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের একটি বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের ‘আঙুল এখনো ট্রিগারে’ রয়েছে। শত্রুর পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হওয়া মাত্রই পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের ভিত্তিতে এই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাস নিয়েই ইসলামাবাদে এই আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে ইরান, আর এই আলোচনার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ। তবে দুই পক্ষ একমত হলে এই সময় আরও বাড়ানো যেতে পারে। এই সন্ধিক্ষণে আমাদের জাতীয় ঐক্য অটুট রাখা এবং বিজয়ের আনন্দ পূর্ণ শক্তিতে উদ্যাপন করে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আলোচনাকে যুদ্ধক্ষেত্রের লড়াইয়েরই এক ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দল—সবাইকে এই প্রক্রিয়ার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে, কারণ এটি সরাসরি বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
বিভেদ সৃষ্টিকারী যেকোনো ধরনের মন্তব্য না করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, যদি আলোচনার মাধ্যমে রণক্ষেত্রে শত্রুর এই নতিস্বীকারকে একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক বিজয়ে রূপ দেওয়া সম্ভব হয়, তবে আমরা সবাই মিলে এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্যাপন করব। আর তা না হলে, ইরানি জাতির প্রতিটি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ময়দানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের হাত এখনো ট্রিগারেই আছে; শত্রুর পক্ষ থেকে সামান্যতম ভুল হওয়া মাত্রই পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়া হবে।
এর আগে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধে ইরানে পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বাংলাদেশ সময় ভোরে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দেন তিনি। তবে এই যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবিলম্বে ও সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে খুলে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাবাহিনী প্রধান (ফিল্ড মার্শাল) আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পাকিস্তানের এই দুই শীর্ষ নেতৃত্ব ইরানে ধ্বংসাত্মক হামলা না চালানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানালে তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হন ট্রাম্প।
পরে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় ইরানও। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ প্রস্তাবে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অনুমোদনের মাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে।
এই চুক্তিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, একটি স্থায়ী চুক্তির লক্ষ্যে পরবর্তী আলোচনা ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হবে। সূত্র: আল জাজিরা।
এমআর