images

আন্তর্জাতিক

‘সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকির পর যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলা চালাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪৪ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে স্ট্রেইট অব হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য শেষ আলটিমেটাম দিয়েছেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান যদি আজ রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) পর্যন্ত চুক্তিতে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে ‘একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না’। তিনি বলেন, তিনি এটা চান না, তবে সম্ভবত তা-ই ঘটবে। এর আগেও ট্রাম্প ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্ট ও সেতু ধ্বংসের হুমকি দিয়েছিলেন।

এই হুমকির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সাইবারসিকিউরিটি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) সতর্কবার্তা জারি করে। 

সিআইএসএ, এফবিআই এবং অন্যান্য সংস্থার যৌথ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট অ্যাডভান্সড পার্সিস্টেন্ট থ্রেট (এপিটি) গ্রুপগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারনেট-সংযুক্ত শিল্প ব্যবস্থায় (অপারেশনাল প্রযুক্তি) হামলা চালাচ্ছে। বিশেষ করে রকওয়েল অটোমেশন/অ্যালেন-ব্র্যাডলি তৈরি প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) ডিভাইসগুলো লক্ষ্যবস্তু।

শুধু তাই নয়, তারা প্রোগ্রামেবল কন্ট্রোলারের মতো ডিভাইসগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। হিউম্যান মেশিন ইন্টারফেস (এইচএমআই) ও সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন ডিসপ্লেতে তথ্য বিকৃত করছে। যেগুলো কারখানা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপরিহার্য অবকাঠামো পরিচালনায় সেবায় বিঘ্ন ঘটছে। 

এতে ইতিমধ্যে কয়েকটি সেক্টরে অপারেশনাল বিঘ্ন ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাগুলোকে তাদের নেটওয়ার্ক জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করতে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বলা হয়েছে।

এ ধরনের হামলার সঙ্গে আগেও সাইবারঅ্যাভেঞ্জার্স নামের গ্রুপকে যুক্ত করা হয়েছে, যা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাইবার ইউনিটের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের রাত ৮টা (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৬টা) পর্যন্ত ইরানের সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় আছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে সাইবার হামলার ঘটনা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ধারনা করা হচ্ছে, এ ধরনের সাইবার অভিযান ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হতে পারে।

সূত্র-বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা