images

আন্তর্জাতিক

ইরানের খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে এই হামলার খবর পাওয়া গেল। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, দেশটির একজন উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন- এই হামলায় শুধু ইরানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, কোনো তেল স্থাপনায় নয়।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স খার্গ দ্বীপে সর্বশেষ হামলার কথা স্বীকার করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের প্রতি মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইটি) সময়সীমার আগে এই হামলা “কৌশলে কোনো পরিবর্তনের” ইঙ্গিত দেয় না।

খার্গ দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। 

ইরানে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বীপটিতে কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগে মার্চ মাসে খার্গ দ্বীপে হামলা চালিয়েছিল। সে সময় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল,  ইরানি নৌবাহিনীর মাইন মজুত কেন্দ্র, ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বাঙ্কার এবং আরও একাধিক সামরিক স্থাপনাসহ ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থিত প্রবাল প্রাচীর দিয়ে ঘেরা খার্গ দ্বীপ তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে, যা দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির সব শর্ত কিংবা দাবি মেনে নেওয়া না হলে ইরানে আজকেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে  হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ইরানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আজ রাতে একটি গোটা সভ্যতার মৃত্যু হবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না’। 

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চাই না এমনটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত তাই ঘটবে। তবে, এখন যেহেতু একটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্বিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে, যেখানে ভিন্ন, অধিকতর বুদ্ধিমান এবং কম উগ্রপন্থী মানসিকতার মানুষেরা প্রাধান্য পাচ্ছে, হয়তো বৈপ্লবিকভাবে চমৎকার কিছু একটা ঘটতে পারে।’

পোস্টের শেষে তিনি বলেছেন, ‘কে জানে? আমরা আজ রাতেই তা জানতে পারব, যা বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। ৪৭ বছরের চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মৃত্যুর অবসান ঘটবে। ইরানের মহান জনগণের মঙ্গল হোক!’

সূত্র: সিএনএন

এমএইচআর