images

আন্তর্জাতিক

এবার ইরানের ট্রেনে হামলার হুমকি ইসরায়েলের 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম

ইরানে নাগরিকদের আজ ট্রেনে ভ্রমণ না করার বিষয়ে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অর্থাৎ এবার দেশটির রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা করেছে দখলদার বাহিনী। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ফারসি ভাষার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় আইডিএফ বলেছে, ‘নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে সারা দেশে ইরান সময় রাত ৯টা পর্যন্ত ট্রেন ব্যবহার ও ট্রেনে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকুন।’ 

তারা আরও জানিয়েছে, ‘ট্রেনে এবং রেললাইনের আশপাশে অবস্থান করলে জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে’।

এ সতর্কতা এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন—ইরানের শাসকগোষ্ঠী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে (ব্রিটিশ সময় বুধবার রাত ১টা) হরমুজ প্রণালী দিয়ে মুক্ত চলাচলের অনুমতি না দিলে তিনি দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাবেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ইরানকে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, নইলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হবে।

সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, ‘পুরো দেশ এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাত আগামীকালও হতে পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত ৮টাই চূড়ান্ত সময়সীমা। এর কোনো পরিবর্তন হবে না।’ তবে এখন পর্যন্ত এই শর্তে রাজি হয়নি ইরান।

এদিকে সোমবার পুরো ইরানে বেশ কয়েকটি বড় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মধ্যে তেহরানের বাহারেস্তানে একটি আবাসিক ভবনে, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং দক্ষিণ বুশেহর প্রদেশের আসালুইয়েহে একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় হামলা।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলছে, বিগত ২৪ ঘণ্টায় গত ১০ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

মঙ্গলবার সকালে এক হালনাগাদ তথ্যে সংস্থাটি জানায়, সোমবার ৬ এপ্রিল সারা দেশে ৪৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও ৫৮ জন আহত হয়েছেন। এনিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত এক হাজার ৬৬৫ জন বেসামরিক নাগরিক।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা

এমএইচআর