images

আন্তর্জাতিক

যে কারণে আব্বাস আরাঘচি জাপানে ব্যাপক জনপ্রিয়

বিশেষ প্রতিনিধি

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

প্রচণ্ড মেধাবী ইরানি কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচি জাপানিদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। তার অবশ্য কারণও রয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের আগে তিনি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও রাষ্ট্রদূত। তিনি আগে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড ও জাপানে ইরানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

২০১১ সালের ১১ মার্চ জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানে ৯.১ মাত্রার ভয়ংকর ভূমিকম্প এবং সুনামি। মারাত্মক ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগে তখন জাপানের কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ মারা যান। 

জাপানের হোনশু উপকূলে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদেশি কূটনীতিকরা দ্রুত জাপান ছেড়ে চলে যান। দূতাবাসগুলো খালি হয়ে যায়।

টোকিওতে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছিল। কিন্তু একজন বিদেশি রাষ্ট্রদূত জাপান সরকারকে অবাক করে দিয়ে বলেন, আমি দেশে ফিরে যাব না জাপানিদের এই বিপদের দিনে।

তিনি হলেন, তৎকালীন জাপানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ইরানি জাতি কখনো বন্ধুকে বিপদে ফেলে পালায় না। পাশে এসে শক্তহাতে বন্ধুকে সহায়তা করে।

আব্বাস আরাঘচি তখন তার দূতাবাসের কর্মীদের নিয়ে ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যাওয়া তোহুকু প্রিফেচারের ইয়ামাদা, ইওয়াতে-র মতো বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে যান জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিয়ে।

যেখানে গোটা জনপদ ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, সেখান গিয়ে তাঁবু গেড়ে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম দিয়ে গৃহহীন জাপানিদের চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি লঙ্গরখানা স্থাপন করেন এবং গরম ইরানি খাবার পরিবেশন করেন।

সেখানে সেই হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডার মধ্যে ইরানি রাষ্ট্রদূতের ওই উষ্ণ মানবিকতা আজো জাপানিদের কাছে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। সবকিছু হারিয়ে বেঁচে ফেরা মানুষদের সান্ত্বনা দেন আব্বাস আরাঘচি।

ইরানি ওই কূটনীতিক তখন জাপানিদের মনে করিয়ে দেন, জাপান একসময় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্থ ইরানকে সাহায্য করেছিল… এখন আমাদের পালা। বিপদের দিনে তাই আমরা জাপানে বন্ধুপ্রতীম মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।

এ কারণে ইরানে কোনও ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে এখনও সবার আগে সাহায়্যের জন্য ছুটে যায় জাপান। এ কারণেই মূলত: ইরান-বিরোধী সেনা অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দেয়নি জাপান। 

বহু বছর পর জাপান সরকার তাকে ‘অর্ডার অফ দ্য রাইজিং সান’ উপাধিতে ভূষিত করে—শুধু কূটনীতির জন্য নয়, তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও মানবতার জন্য।

এখন সেই একই ব্যক্তি মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইরানের একটি সাহসী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

পশ্চিমা মিডিয়া যখন তাকে প্রশ্ন করে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ইরানে স্থল সেনা পাঠাচ্ছেন, আপনি কি এতে ভয় পাচ্ছেন? 

উত্তরে মুচকি হেসে শান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি। তবে, যেসব মার্কিন সেনা ইরানে প্রবেশ করবে, তারা ফিরবে কফিনে করে।

তার ওই ঠাণ্ডা মেজাজের অথচ ভয়ংকর জবাব শুনে পশ্চিমাদের অন্তরাত্মায় রীতিমতো কাঁপন ধরে গেছে। 

-এমএমএস