আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ এএম
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে না এলে ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, চুক্তির জন্য ইরানকে আগে দেওয়া দুই থেকে তিন সপ্তাহের সময়সীমা এখনো বহাল আছে কি না। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক দিনের বিষয় হওয়া উচিত।’
হামলায় ইরান তছনছ হয়ে গেছে দাবি করে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি (ইরান) প্রতিদিন আরও খারাপের দিকে যাবে।
কোনো দেশ ইরানের মতো এত মার খায়নি দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রতিদিন তাদের (ইরানের) আরও বেশি সেতু নির্মাণ করতে হবে, আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে হবে এবং সবকিছু নতুন নতুন তৈরি করতে হবে। এর আগে কোনো দেশ এভাবে মার খায়নি।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে ইরান। তেহরান জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতোমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ তৈরি করেছে।
প্রণালিটি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। অন্যথায় দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকিও দেন তিনি।
রোববার সাক্ষাৎকারের আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। তিনি লেখেন, ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরান সময় বুধবার মধ্যরাত)।
একই দিন দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।
ট্রাম্পের এমন হুমকির পর প্রয়াত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়াতি বলেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে হরমুজ প্রণালির বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ভেলায়াতি দাবি করেন, ইরানের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা শিক্ষা নিলেও এখনো ‘ক্ষমতার ভূগোল’ পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি।
এমআর