আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ইরান যুদ্ধে যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয় চিন্তা-ভাবনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে পশ্চিমা ওই সামরিক জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে আমেরিকাকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এখন পুনর্বিবেচনায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে দাবি ট্রাম্প করেছিলেন, তা মিত্র দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করার পর ইউরোপকে আর নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে না যুক্তরাষ্ট্র।
সংঘাত শেষ হওয়ার পর ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ নিয়ে তিনি পুনরায় ভাববেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ওহ হ্যাঁ, আমি বলব এটি পুনর্বিবেচনার ঊর্ধ্বে। আমি কখনোই ন্যাটোর মাধ্যমে প্রভাবিত হইনি। আমি সবসময় জানতাম তারা একটি কাগুজে বাঘ, আর পুতিনও তা জানেন।
আরও পড়ুন:
বিশ্ববাজারে ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ন্যাটোর অংশীদাররা অনীহা প্রকাশ করেছে।
তেহরান কয়েক সপ্তাহ ধরে কার্যকরভাবে এই প্রণালী বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং বৈশ্বিক মন্দার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ন্যাটো যুদ্ধে না থাকার বিষয়টি ছিল আসলে অবিশ্বাস্য। আমি এ নিয়ে বড় কোনও জোরাজুরি করিনি। আমি শুধু বলেছিলাম। আমি খুব বেশি চাপ দিইনি। আমি মনে করি, এটি স্বতস্ফূর্তভাবে হওয়া উচিত ছিল।
আমরা ইউক্রেনসহ সব জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলাম। ইউক্রেন আমাদের সমস্যা ছিল না। এটি একটি পরীক্ষা ছিল এবং আমরা তাদের পাশে ছিলাম, আমরা সবসময় তাদের পাশে থাকতাম। কিন্তু তারা আমাদের পাশে নেই।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকেও তিরস্কার করেছেন তিনি। ইরান বিরোধী মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করায় ব্রিটিশ নৌবাহিনী এই কাজের যোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
ব্রিটেনের যুদ্ধজাহাজ বহরের অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কোনও নৌবাহিনীই নেই। আপনারা অত্যন্ত পুরোনো এবং আপনাদের এমন বিমানবাহী রণতরী ছিল; যা কাজই করেনি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষায় আরও ব্যয় করা উচিত কি না—জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আমি তাকে কী করতে হবে তা বলতে যাচ্ছি না। তিনি যা খুশি করতে পারেন। তাতে কিছু যায় আসে না। স্টারমার শুধু ব্যয়বহুল বায়ুকল চান; যা আপনাদের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী করে তুলছে।’
যুদ্ধে দীর্ঘদিনের মিত্রদের অবস্থান নিয়ে হোয়াইট হাউসের মাঝে হতাশা বাড়ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ন্যাটোকে ‘একতরফা রাস্তা’ হিসেবে অভিযুক্ত এবং মঙ্গলবার মার্কিন মিত্ররা তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেছেন।
ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের কয়েক ঘণ্টা আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে আমেরিকাকে ন্যাটোর সদস্যপদ নিয়ে ‘পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা’ করতে হবে।
আমি মনে করি দুর্ভাগ্যবশত এই সংঘাত শেষ হওয়ার পর আমাদের ওই সম্পর্ক নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, ন্যাটো যদি শুধু এমন হয় যে তারা আক্রান্ত হলে আমরা ইউরোপকে রক্ষা করব, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনের সময় তারা আমাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার দেবে না, তাহলে তা খুব একটা ভালো ব্যবস্থা নয়। এমন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকা কঠিন।
-এমএমএস