আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে ক্রমেই অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি। ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইতোমধ্যেই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন বলেও বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু জ্বালানি সংকটই নয়, বড় অর্থনীতির দেশগুলোও মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দার মুখে পড়তে পারে। এমনকি যুদ্ধ শেষ হলেও প্রভাব কাটতে লাগতে পারে অনেক সময়। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরান যুদ্ধের পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে— এমন আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যাংক পিল হান্ট।
তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলো ‘মুদ্রাস্ফীতিজনিত মন্দার’ ঝুঁকিতে পড়বে।
অর্থাৎ, একই সঙ্গে দাম বাড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
ব্যাংকটি বলছে, এখন যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষও হয়, তবুও অন্তত দুই সপ্তাহ ধরে এর অর্থনৈতিক প্রভাব চলবে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
এতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে যুদ্ধ শেষ হলেও হরমুজ প্রণালী হয়তো মার্কিনিদের জন্য বন্ধই থেকে যেতে পারে।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন হরমুজ প্রণালী খুলে না দিয়েই যুদ্ধ শেষ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ট্রাম্প ব্রিটেনসহ অন্য দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তারা যেন নিজেরাই তাদের তেলের ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালীর সমস্যাও নিজেরাই সমাধান করে।
পিল হান্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যালাম পিকারিং বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। এতে দ্রুত একতরফা সমাধান কঠিন হয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ শেষে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ঝুঁকি বাড়ছে’।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা এখন পশ্চিম থেকে পূর্বে ছড়িয়ে পড়ছে। এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।
তার ভাষায়, ‘এরপর যদি ইউরোপেও একই অবস্থা হয়, তাহলে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা আরও বাড়বে’।
অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি ১.৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম ৪.৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ।
কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিক্স বলেছে, যদি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বাড়ায়, তাহলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী গত সপ্তাহান্তে প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
ক্যালাম পিকারিং সতর্ক করে বলেন, ‘যুদ্ধ দীর্ঘ হলে বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতিসহ মন্দা দেখা দিতে পারে। তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সহজে নীতি শিথিল করতে পারবে না, বরং সুদের হার বাড়াতে হতে পারে।’
এদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গত সোমবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তারা যেন জনগণকে বাড়তি দামের চাপ থেকে রক্ষা করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করে। ডাউনিং স্ট্রিটে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘সরকার একা এটি করতে পারবে না’।
-এমএমএস