images

আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, দেশেও বাড়ার আভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে বলে আশার বাণী দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ডলারের দাম কিছুটা কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১ এপ্রিল) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি ৪ হাজার ৭২৩ দশমিক ২১ ডলারে উঠেছিল, যা গত ২০ মার্চের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৭১৩ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

GOLD-DHAKAMAIL_20260203_103624559

মার্কিন ডলার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত পণ্য, বিশেষ করে স্বর্ণ, তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা না হলেও যুক্তরাষ্ট্র দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করতে পারে-এমন আলোচনায় মার্কিন শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যার প্রভাব স্বর্ণের দামেও দেখা যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে এর প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। তাই যে কোনো সময় দেশে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হতে পারে।

এর আগে সর্বশেষ গত ৩১ মার্চ সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হয় সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য তেহরানকে কোনো পূর্বশর্তে চুক্তিতে আসতে হবে না। তিনি বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে শেয়ার ও বন্ড বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দাম বাড়ার গতি সীমিত থাকতে পারে। কারণ মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়লে সুদের হারও বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কঠোর মুদ্রানীতির প্রত্যাশা বাড়ায় এবং ডলার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান নেয়ায় মার্চ মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছিল। এটি অক্টোবর ২০০৮-এর পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন।

GettyImages-1015904752-ddee9a2d24fc480dad8e78022f6e9952_20260203_103436997

যুদ্ধের আগে অন্তত দুইবার সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা থাকলেও এখন বাজারে সেই প্রত্যাশা প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা ধারণা করছেন, চলতি বছর ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমাবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত কম সুদের হারের পরিবেশে ভালো করে, কারণ এটি কোনো লভ্যাংশ দেয় না। ওসিবিসির কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও কমে গেলে ফেডের নীতি শিথিল করার প্রত্যাশা ফিরতে পারে। এতে প্রকৃত সুদের হার কমবে, যা স্বর্ণের দামের জন্য সহায়ক হবে।

অন্যান্য ধাতুর দামে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯৬৩ দশমিক ২২ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৮৪ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এমআই