আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ এএম
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটি।
দেশটির বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পর্কিত সংবাদ সংস্থা ফারস এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের একজন সদস্য এ পরিকল্পনা অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পরিকল্পনায় বলা রয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশকেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নিষিদ্ধ করা হবে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন টোল ব্যবস্থা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ঘোষণা করেছে। এতে বলা হয়েছে, ওমানের সহযোগিতা নিয়ে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হিসেবে বিবেচিত, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।
ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যেকোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে। ইরানের হামলার পর দেশটি হরমুজ প্রণালিকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে যথেষ্ট আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
এমআর