আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ইরানি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করা মানেই ‘আত্মহত্যা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রোববার (২৯ মার্চ) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল এ তথ্য জানায়।
দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গোলামরেজা মেসবাহি মোগাদাম বলেন, মার্কিন বাহিনীর উচিত 'প্রাণ' নিয়ে পালানো। বড় ধরনের ক্ষতি বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে মার্কিন প্রশাসনকে।

গোলামরেজা মেসবাহি মোগাদাম
তিনি আরও বলেন, অতীতে ইরানের উচিত ছিল হরমুজ প্রণালীকে আরও আগেই একটি কৌশলগত প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করা, যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর প্রবেশ রোধ করা যায়।
এদিকে, সাড়ে তিন হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি। আর তার পর থেকেই জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে এবার স্থল অভিযানেও নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে আমেরিকা।
এই জল্পনা জোরালো হতেই ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘‘স্বাগত। তোমাদের জন্য অপেক্ষা করে আছি।’’ প্রসঙ্গত, শনিবারই তেহরান টাইমস-এর প্রথম পাতার শিরোনাম করা হয়েছে ‘ওয়েলকাম টু হেল’। তার ঠিক নীচে লেখা, ইরানের মাটিতে কোনও মার্কিন সেনার পা পড়লে কফিনবন্দি হয়ে ফিরবেন।
আরও পড়ুন:
বিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলিতে দাবি করা হয়, ৩৫০০ সেনা নিয়ে মার্কিন রণতরী পৌঁছেছে পশ্চিম এশিয়ায়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর প্রতিবেদনে আবার দাবি করা হয়েছে, খার্গ দ্বীপ দখল করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হরমুজ় প্রণালীর কাছে তটীয় এলাকায় নজরদারিও শুরু করেছে মার্কিন সেনা। ফলে সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিচ্ছে।
এই জল্পনা বাড়তেই ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিল। আমেরিকা যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তা হলে এমন হামলার মুখে পড়তে হবে ওদের, কল্পনা করতে পারবে না।
তার পরই ভারতে ইরানের দূতাবাস থেকে এক্স হ্যান্ডলে তেহরান টাইমস-এর প্রথম পাতা ট্যাগ করে লেখা হয়, ‘‘তোমাদের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’’
প্রসঙ্গত, সামরিক সংঘাতের আগেই পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছে গিয়েছিল দু’টি মার্কিন রণতরী। ২৫০০ সেনা মোতায়েন করা হয়। পরে আরও একটি রণতরীতে ৩৫০০ সেনা নিয়ে যাওয়া হয়। একের পর এক রণতরী পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছোতেই ইরানে স্থল অভিযানের জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে।
-এমএমএস