আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ পিএম
ইরানের ইংরেজি দৈনিক তেহরান টাইমস শনিবার তাদের প্রথম পৃষ্ঠায় ‘ওয়েলকাম টু হেল’ শিরোনামে ওয়াশিংটনকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছে।
দৈনিকটিতে বলা হয়েছে, স্থল হামলার ক্ষেত্রে যে কোনো মার্কিন সেনা যারা ইরানের মাটিতে পা রাখবে, তারা ‘কেবল কফিনে করেই ফিরবে’।
এই সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন গণমাধ্যম একদিন আগে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের কথা বিবেচনা করছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধংদেহী মনোভাব এখন এক চরম নাটকীয় মোড়ে পৌঁছেছে। এই খবর চাউর হতেই জল্পনা তুঙ্গে, হোয়াইট হাউস কি তবে ইরানের ভেতরে বড় কোনো স্থল অভিযানের ছক কষছে?
যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুখে বলছেন শান্তি আলোচনার কথা, কিন্তু পর্দার আড়ালে যুদ্ধের দামামা অন্য সুর বাজাচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ময়দানে ট্রাম্পের সামরিক বিকল্পগুলো আরও জোরালো করতেই এই বাড়তি সেনা মোতায়েন।
আগে থেকেই মোতায়েন থাকা হাজার হাজার প্যারাট্রুপার ও মেরিন সেনাদের সঙ্গে যোগ দেবে এই নতুন বহর।
তবে ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। তেহরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার কোনো স্থল হামলার চেষ্টা করা হলে তারা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ‘অ্যাক্টিভেট’ করে দেবে। যার অর্থ, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে যুদ্ধের এক নতুন ফ্রন্ট খুলে দেওয়া।
মজার ব্যাপার হলো, একদিকে ট্রাম্পের রণসজ্জা বাড়ছে, অন্যদিকে তিনি সাংবাদিকদের বলছেন, যুদ্ধ শেষের আলোচনা নাকি খুবই ভালো চলছে!
এমনকি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও হামলার যে সময়সীমা তিনি দিয়েছিলেন, সেটিও আপাতত পিছিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, একদিকে গাজর দেখানো, অন্যদিকে লাঠি উঁচিয়ে রাখা, ট্রাম্পের চিরচেনা সেই ‘ডাবল গেম’।
এদিকে, রণক্ষেত্রে উত্তাপ কমছে না বিন্দুমাত্র। শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা পরই লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলোতেও বৃষ্টির মতো বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের সাথে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এতে অনেক ইসরায়েলি সেনা হতাহত হয়েছে।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধে ভারী। তেহরানের ‘নরকে স্বাগতম’ বার্তা আর ওয়াশিংটনের সেনাবহর পাঠানোর এই খেলা বিশ্বকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
-এমএমএস